Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুন, ২০১৮ ২৩:২৩

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রাণী প্রজননে ব্যাপক সম্ভাবনা

শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রাণী প্রজননে ব্যাপক সম্ভাবনা

বনের রাজা সিংহ দেশের বনাঞ্চল থেকে হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। সেই সিংহ প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধির চেষ্টায় সাফল্য পাওয়া গেছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রজননের মাধ্যমে সিংহের সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে ২৫ হয়েছে। এ সংখ্যা বাড়তে থাকলে এক সময় সাফারি পার্কের সিংহ বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে বলে স্বপ্ন দেখছেন সাফারি পার্কের গবেষকরা। সাফারি পার্কে শুধু হারিয়ে যাওয়া সিংহ-ই নয়, বংশবৃদ্ধি করছে বিরল অনেক প্রাণী। এর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) অন্যতম। মরুভূমির প্রাণী উটপাখি, জিরাফ, জেব্রা, হাতি, কমন ইল্যান্ড, ব্ল্যাকবাক, মিয়ালা, ইমু পাখি, ক্যাঙ্গারু, ব্ল্যাক সোয়ান, ময়ূর, মহাবিপন্ন মদনটাক, দেশীয় কালিম, জলহস্তীসহ বহু প্রাণীর বংশবৃদ্ধি হচ্ছে এখানে।

এশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে সিংহের দেখা মিললেও বাংলাদেশে সিংহের দেখা মেলেনি। সারা বিশ্বেই ভৌগোলিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আজ সিংহের সংখ্যা হাতে গোনা। আমাদের দেশে সিংহের অবস্থান বেশির ভাগই খাঁচার ভিতর। আওয়ামী লীগ সরকার প্রাণীকুলের বংশবৃদ্ধি ও দর্শনার্থীদের বিনোদনের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে গাজীপুরের শালবনের বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক গড়ে তোলে। তারপর থেকেই সাফল্যের শুরু। ২০১৩ সালেই সাফারি পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২টি পুরুষ ও ৫টি মাদী সিংহ আনা হয়। এ ছাড়াও আনা হয় আরও ৪টি সাদা প্রজাতির সিংহ। আফ্রিকার পরিবেশের সঙ্গে সাফারি পার্কের পরিবেশের খুব তারতম্য না থাকায় দ্রুতই মানিয়ে নিয়েছে তারা। গত পাঁচ বছরেই সাফারি পার্ক এখন সিংহ প্রজননে দেশের সেরা। বর্তমানে সাফারি পার্কে সিংহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। সিংহের বেষ্টনীতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত সিংহ রয়েছে। দ্রুতই কিছু সিংহ অন্যত্র স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সাফারি পার্ক সূত্র জানায়, রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘ) এ পর্যন্ত বাচ্চা দিয়েছে ৩টি। সিংহ বাচ্চা দিয়েছে ১৪টি। ক্যাঙ্গারু দিয়েছে ১টি, ইমু পাখি দিয়েছে ৩টি বাচ্চা, উটপাখি দিয়েছে ৪টি বাচ্চা, মদনটাক দিয়েছে ৩টি বাচ্চা, ময়ূর দিয়েছে ৩৫টি বাচ্চা, জিরাফ দিয়েছে ৩টি বাচ্চা, জেব্রা দিয়েছে ৪টি বাচ্চা, কমন ইল্যান্ড দিয়েছে ১টি বাচ্চা, মিয়ালা দিয়েছে ১টি বাচ্চা, হাতি দিয়েছে ২টি বাচ্চা, জলহস্তী দিয়েছে ১টি বাচ্চা, ব্ল্যাক সোয়ান দিয়েছে ১০টি বাচ্চা, দেশীয় কালিম, চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ দিয়েছে অসংখ্য বাচ্চা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিসুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা সাফারি পার্কে সম্পূর্ণ বন্য পরিবেশে প্রাণীদের আবাসভূমি গড়ে তুলেছি। তাদের খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজরদারিতেই মূলত সিংহ প্রজননে সাফল্য পেয়েছি। এ পার্কের মতো দেশের আর কোথাও এত সিংহ নেই। প্রজননে সাফল্য পাওয়ায় সাফারি পার্কের চাহিদা মিটিয়ে এখন কিছু সিংহ অন্যত্র স্থানান্তর জরুরি। না হলে ইনব্রিডিং (আন্ত প্রজনন) এর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। অবাক বিষয় আমরা আফ্রিকান ব্রাউন সিংহ হতে চারটি সাদা সিংহও পেয়েছি।

পার্কের অপর বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. সরোয়ার হোসেন খান জানান, সাধারণত পুরুষ সিংহের ওজন হয় ১৫০ থেকে ২৫০ কেজি। স্ত্রীরা (সিংহী) সাধারণত ১১০ থেকে ১৯০ কেজি পর্যন্ত হয়। সিংহ মাংসাশী প্রাণী। বিভিন্ন জাতের হরিণ, বুনো মহিষ, শূকর ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় থাকলেও সাফারি পার্কে সিংহকে গবাদি পশুর মাংস খেতে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ২ থেকে ৩ বছর বয়সে সিংহী প্রজননে সক্ষম হয়। শিশু সিংহ জন্মের পর অন্ধ থাকে; তারা এক সপ্তাহ বয়সে চোখ খুলে এবং ২ সপ্তাহ বয়স না হলে তারা ভালো করে দেখতে পারে না। যখন দেখা যায় সিংহী নিজের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত খাবার নিয়ে যাচ্ছে তখনই প্রথম জানা যায় বাচ্চা প্রসব করেছে। তারা প্রাকৃতিক পরিবেশে সন্তানের পরিচর্যা নিজেরাই করে।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, এই পার্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে প্রাণীরা বন্য পরিবেশে উন্মুক্ত থাকে। আর দর্শনার্থীরা আবদ্ধ অবস্থায় গাড়িতে করে তা উপভোগ করে। বন্য পরিবেশ ও কর্তৃপক্ষের নজরদারির কারণেই এখানে প্রাণীদের বংশবৃদ্ধি ঘটছে। আর সিংহ প্রজননে এখন এই পার্কই দেশের সেরা অবস্থানে রয়েছে।


আপনার মন্তব্য