শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:৫৪

ঢিমেতালে সিলেটের রাজনীতি

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আস্থাহীন বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আস্থাহীন বিএনপি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবি, কর্মসূচিবিহীন রাজনীতি, মাথায় মামলার পাহাড়- সব মিলিয়ে হতাশায় আচ্ছন্ন সিলেট বিএনপির নেতা-কর্মীরা। উপজেলা নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দোটানা মনোভাবের কারণে কেন্দ্রের প্রতিও আস্থাহীন হয়ে পড়েছেন তারা। ফলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবার উপজেলা নির্বাচনে জেলার ৬টি উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দলটির দায়িত্বশীল ১০ নেতা। এসব নেতা তাদের কর্মী-সমর্থক ও অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে শোডাউন করেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি প্রার্থীদের বিশাল ভরাডুবি হলেও সিলেটের ফলাফল ছিল অনেকটা আশাব্যঞ্জক। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে একটিতে বিজয়ী হন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। বাকি ৫টি আসনের মধ্যে দুটিতে লক্ষাধিক ও         ৩টিতে এক লাখের কাছাকাছি ভোট পান বিএনপির প্রার্থীরা। নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য দলের পক্ষ থেকে কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করা হলেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা এজন্য দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী করছেন। দলীয় ঐক্য অটুট থাকলে এবং কেন্দ্রে কেন্দ্রে শক্ত অবস্থান নিতে পারলে কয়েকটি আসন হাতছাড়া হতো না বলেও মনে করেন তারা। জেলার ১৩টি উপজেলা পরিষদের মধ্যে ৬টির বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির। আর দুটিতে রয়েছেন জামায়াতের। এ ছাড়া বাকি উপজেলাগুলোতেও বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা নির্বাচন করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে হতাশা ঘিরে ধরেছে এসব নেতাকে। এই হতাশা থেকে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ৬ উপজেলায় ১০ নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট সদর উপজেলায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহজামাল নূরুল হুদা,  জেলা শাখার উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম ডালিম, বিশ^নাথে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালালউদ্দিন, বালাগঞ্জে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, ফেঞ্চুগঞ্জে জেলা বিএনপির সদস্য ওহিদুজ্জামান সুফী প্রমুখ  প্রবাসী বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ চৌধুরী, গোয়াইনঘাটে জেলা বিএনপির সহসভাপতি লুৎফুল হক খোকন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপন ও গোলাপগঞ্জে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মাওলানা রশিদ আহমদ।  বিগত দিনের আন্দোলন ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির জেলা ও মহানগর শাখার শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নামেও বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়। ১০-১২টি মামলা নিয়ে একেকজন নেতা-কর্মী জামিন নিতে ব্যস্ত আদালতপাড়ায়।

যারা জামিনে আছেন তারা দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত হাজিরা। ফলে অনেকের পরিবারের পক্ষ থেকেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে। দলের বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, দল বা রাজনীতি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে কোনো ধরনের হতাশা নেই। কিন্তু গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে কারচুপি হয়েছে তা পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। এরকম নির্বাচন দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে আস্থা সংকটে ফেলেছে। দলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করতে সিলেটে প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হচ্ছে। ওই সভায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল যোগ দিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবে।


আপনার মন্তব্য