Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪৪

চট্টগ্রামে দুদকের জালে এক ডজন ‘ক্ষমতাধর’ ওসি

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে দুদকের জালে এক ডজন ‘ক্ষমতাধর’ ওসি

এবার দুদকের জালে ধরা পড়ছেন চট্টগ্রামের ‘ক্ষমতাধর’ এক ডজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। এসব ওসির বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এমন অন্যায় কাজ করার পরও চট্টগ্রামে অনেকটা ক্ষমতা দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করেন অভিযুক্ত ওসিরা। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান তদন্তে নামেনি। তবে দেরিতে হলেও ওসিদের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিয়মবহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেও অভিযোগ থেকে বাঁচতে অনেকে সম্পদ রেখেছেন তাদের স্ত্রীদের নামে। এতে দুদকের জালে ধরা পড়ছেন অনিয়মে জড়িত ওসিদের স্ত্রীরাও। তাদের (ওসিদের স্ত্রী) বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুদক। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনের অনুসন্ধান শেষে অবৈধ আয় ও সম্পদের খোঁজও পেয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে কয়েকজন ওসিকে স্ত্রীসহ নিজের সম্পদবিবরণী দাখিলের নোটিসও দিয়েছে দুদক। দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আবুল কাশেম ভুঁইয়া, প্রদীপ কুমার দাশ, রণজিত কুমার বড়ুয়া, মো. শাহজাহান, এস এম ময়নুল ইসলাম, আলমগীর মাহমুদসহ কয়েকজনের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে তদন্তের কাজ শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ পরিদর্শক আবুল কাশেম ভূঁইয়া বর্তমানে পাঁচলাইশ থানার ওসি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর থানায় কর্মরত থাকাকালে ভয়ভীতি দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। পুলিশ পরিদর্শক রণজিত কুমার বড়–য়া বর্তমানে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি হিসেবে কর্মরত। ২০১৮ সালে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ মডেল থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এর আগে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতেও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। সন্দ্বীপ থানার বর্তমান ওসি মো. শাহজাহান। এর আগে তিনি জেলার লোহাগাড়া থানায় কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। পুলিশ পরিদর্শক এস এম ময়নুল ইসলাম বর্তমানে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি হিসেবে কর্মরত। তিনি নগরীর বন্দর থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। কর্ণফুলী থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ। এর আগে তিনি জেলার শিল্পপুলিশ, নগরীর পতেঙ্গা ও আকবর শাহ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। টেকনাফ মডেল থানার ওসি হিসেবে রয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ। তিনি নগরীর পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী থানাতেও ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি থাকাকালে সুপার রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি সেলিম আহাম্মদের বিরুদ্ধে তেল পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন প্রদীপ কুমার দাশ। পরে চাকরি ফিরে পেয়ে মহেশখালী থানায় পদায়িত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এ বি এম শাহাদাৎ হোসেন মজুমদার। শাহাদাৎ হোসেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলছে দুদকের তদন্ত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর