শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৫

পাঠকের মুখোমুখি সমরেশ মজুমদার

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

পাঠকের মুখোমুখি সমরেশ মজুমদার

সৃজনশীল মানুষের কোনো সীমারেখা নেই, পুরো জগৎটাই তাদের। নিজ নিজ সৃষ্টিকর্মেই বিশ্বভুবনে তাদের জনপ্রিয়তা। ওপার বাংলার কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের উপস্থিতি সে বিষয়টি আবারও প্রমাণ করেছে। জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক রাজধানী ঢাকায় এলেন, ভক্তদের মুখোমুখি হলেন, অটোগ্রাফ দিলেন, ছবি তুললেন আর নিজের লেখক হয়ে ওঠার গল্প বললেন। লেখকের অগণিত পাঠক ও ভক্ত মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলেন সমরেশ মজুমদারের লেখক হয়ে ওঠার সেই গল্প। গতকাল বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে বাতিঘর মিলনায়তনে আয়োজিত হয় ‘বই প্রকাশের গল্প’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান। লেখক হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে নিজের জনপ্রিয় সৃষ্টি ‘কালবেলা, সাতকাহন, দীপাবলি’সহ বিভিন্ন উপন্যাসের বিষয়ে আলোকপাত করেন সমরেশ। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ। এ আয়োজনে প্রকাশিত হয় সমরেশ মজুমদারের নতুন বই ‘অপরিচিত জীবনযাপন’ এবং বাদল সৈয়দের লেখা ‘জন্ম জয়’ বই দুটো। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি সমরেশ মজুমদার বলেন, আমার লেখা ‘কালবেলা’ বইটা ন্যায্যভাবে এক লাখ সাত হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। আর বিভিন্ন পত্রিকা এবং নানা জায়গা থেকে জেনেছি, বাংলাদেশে আড়াই লাখেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। ‘কালবেলা’ উপন্যাসের মাধবীলতা তো বিয়ে না করেও সন্তানের মা হয়। এ ধরনের বই লিখলে তো অশ্লীলতার অভিযোগে তা বাতিল করে দেওয়ারই কথা। কিন্তু বাঙালি পাঠক মাধবীলতাকে কেন গ্রহণ করল? এর আগে আমি যখন ঢাকায় আসি তখন ঢাকা ক্লাবে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। তারা জানায়, তাদের নাম অনিমেষ এবং মাধবীলতা। আমি ভাবলাম, মজা করছে হয়তো। পরে তারা জানাল, এফিডেভিট করেই তারা নিজেদের নাম রেখেছে অনিমেষ আর মাধবীলতা। এরপর দর্শকদের কাছে সমরেশ জানতে চান, কেন অনিমেষ, মাধবীলতা চরিত্র এত জনপ্রিয় হলো? দর্শক সারি থেকে এ সময় দুজন পাঠক সমরেশকে জানান, উপন্যাসটি কেন তাদের ভালো  লেগেছে। ওপার বাংলার এই লেখক বলেন, যে কোনো কিছুতেই আলাদা হতে না পারলে, কেউ গ্রহণ করবে না।

 কেউ ফিরেও তাকাবে না। একই রকম লিখলে তো হবে না। ভিন্ন কিছু লেখার চেষ্টা করতে হবে। আমি কখনো একই জিনিস বারবার লিখিনি, লিখতে চাই না। এমনকি আমি একই ধরনের বাক্যও দুবার লিখি না। ভুল করে লিখে ফেললেও তা বদলে দিই। এই গুণ প্রত্যেক লেখকের থাকতে হবে এবং নতুন কিছু দেওয়ার তাগিদ থাকতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর