শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০১:৪৭

বিউটি বোর্ডিংয়ে মিলন মেলা

মাহবুব মমতাজী

বিউটি বোর্ডিংয়ে মিলন মেলা

যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিউটি বোর্ডিং। পুরান ঢাকার শ্রীশদাস লেনে বাংলাবাজারের পাশেই এ বোর্ডিং। একসময় কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডায় প্রাণবন্ত থাকত স্থানটি। গতকাল এখানে এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পায় সেই বিউটি বোর্ডিং। অনুষ্ঠানে আসা রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধারা ফিরে যান সেই আড্ডায়। তাদের স্মৃতিচারণায় ভেসে আসে ষাটের দশকের সেই দিনগুলো। মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, সাংবাদিক কামাল লোহানী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আলমগীর শিকদার লোটনসহ অনেকে। দেশভাগের আগে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকার অফিস ছিল বিউটি বোর্ডিংয়ে। এখানে আসতেন কবি শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, সমর সেন, সৈয়দ শামসুল হকসহ অনেক বিখ্যাত মানুষ। তৎকালীন দেশের প্রেক্ষাপটে কবি-সাহিত্যিকরা রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রচনা করতেন কবিতা, নাটক, উপন্যাস, গল্প। সাহিত্যের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগে বিউটি বোর্ডিংয়ে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরও আসা-যাওয়া ছিল। ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, আইয়ুব খানের মার্শাল লবিরোধী আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার ছিল পুরান ঢাকার এই বিউটি বোর্ডিং। গতকাল মিলনমেলায় শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রাণকেন্দ্র ছিল পুরান ঢাকা। তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ (এখন বিশ্ববিদ্যালয়), বিউটি বোর্ডিং ছিল বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ’৭০-এর নির্বাচনে এ এলাকার আসন থেকেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপি বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধ ও সংগ্রামে ছিলাম। জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) ছিল স্বাধীনতার আঁতুড়ঘর। এই সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে ছাত্রলীগের সুসম্পর্ক ছিল। ওই সময়কার সবার দেশপ্রেম ছিল এমন যে সবাই যেন একেকজন সূর্যসেন ও প্রীতিলতা। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম গুলি ছোটে পুরান ঢাকা থেকে। বিউটি বোর্ডিংয়ের অবদান কম নয়। এ জায়গাটা ছিল নিরাপদ আশ্রয়স্থল। পকেটে টাকা থাকত না। সারা দিন মিছিল-মিটিং করে আসতাম। বড় ভাইয়েরা বিল দিতেন। আবার এখানে বাকি খাইতাম।’

মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘বিউটি বোর্ডিংয়ে কবি-সাহিত্যিক সবাই আসতেন। এখানে ষাটের দশকের আন্দোলনের পরামর্শ হতো। ওই সময় দলমতনির্বিশেষে সবাই পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।’ স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল বলেন, ‘১৯৬৩ সাল থেকে এখানে এসে বসতাম। জগন্নাথ কলেজের ছাত্র ছিলাম। ক্লাসের বাকি সময়টকুর আড্ডাস্থল ছিল এটি। এখানে এসে জহির রায়হান, সমর সেন, খান আতাসহ নামিদামি কবি-সাহিত্যিকদের দেখতাম। আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে এ বোর্ডিংয়ের স্মৃতি অনেক।’ সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেন, ‘বিউটি বোর্ডিংয়ে দলমতনির্বিশেষে সবাই জমায়েত হতেন। মুক্তিযোদ্ধা ও বিপ্লবীদের আড্ডাস্থল ছিল এটি।’ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিউটি বোর্ডিং ছিল ঢাকার কফি হাউস। আমি জুবলী স্কুলে পড়তাম। তখন কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডা দূর থেকে দেখতাম।’ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, ‘স্বাধীনতার পক্ষশক্তিদের আড্ডাস্থল ছিল বিউটি বোর্ডিং। ’৭০-এর নির্বাচনে আমার আব্বা গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় ছোটবেলা থেকে এখানে আসা হতো। এখনো প্রতিদিন এখানে বসি।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর