শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:০০

সিলেটে কালোবাজারির হাতে ট্রেনের টিকিট

দালালদের কাছে যাত্রীদের পাঠান স্টেশন ম্যানেজার

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

রেলকে যখন যাত্রীবান্ধব পরিবহন করার চেষ্টা চলছে তখন সিলেটের যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগ। রেলের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কালোবাজারিদের হাতে টিকিট চলে যাওয়ায় কাউন্টার থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে যাত্রীদের। খোদ স্টেশন ম্যানেজারই টিকিটের জন্য যাত্রীদের বাইরের দালালদের কাছে পাঠিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা কালোবাজারি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রেলের যাত্রীরা। রেলের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে আগেভাগেই কেটে রাখা হয় টিকিট। ফলে যাত্রীরা কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতে ব্যর্থ হন। অনেক সময় সিট খালি থাকলেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের। গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শোয়েব হাসান ২০ ফেব্রুয়ারির উদয়ন এক্সপ্রেসের (চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ট্রেন) টিকিট কাটতে যান। তখন কাউন্টার থেকে তাকে জানানো হয় ট্রেনের কোনো আসন খালি নেই। এ সময় কয়েকজন দালাল তার কাছে বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করে। এরপর তিনি দেখা করেন স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমানের সঙ্গে। স্টেশন ম্যানেজার তাকে বাইরে দালালদের কাছ থেকে টিকিট কেনার পরামর্শ দেন। পরে বাধ্য হয়ে প্রতি টিকিটে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে দালালদের কাছ থেকে টিকিট কেনেন তিনি। স্টেশনে টিকিট কিনতে আসা কোনো যাত্রী স্টেশন ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি বাইরে দালালদের কাছ থেকে টিকিট কেনার পরামর্শ দেন বলে অনেক যাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমান।

 কাউন্টারে পাওয়া না গেলেও টিকিট প্রাপ্তির ‘বিশ্বস্ত’ জায়গা হচ্ছে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের পার্শ্ববর্তী যমুনা মার্কেটের ‘ওয়ান মিডিয়া’ ও ‘অনলাইন মিডিয়া’। এ দুটি দোকানে গেলেই মেলে টিকিট। প্রতি টিকিটে তারা ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেন। সূত্র জানায়, স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা টিকিট কেটে পাঠিয়ে দেন ওই দুটি দোকানে। অনলাইনে টিকিট কেটেও বিক্রি করা হয় দোকান দুটিতে। বাইরের দোকানে ট্রেনের টিকিট বিক্রির বিষয়টি জানেন স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমান। কিন্তু এর বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। কালোবাজারে টিকিট বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানাননি। বাইরে কে কীভাবে টিকিট বিক্রি করছে গণমাধ্যমকে তা খুঁজে দেখার পরামর্শ দেন তিনি।

নগরীর শিবগঞ্জের নাজমুল আলম নামের এক যাত্রী জানান, গত মঙ্গলবার তিনি ঢাকাগামী উপবন ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পাননি। কাউন্টারের এক কর্মচারী তাকে ‘ওয়ান মিডিয়া’য় যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে তিনি ওয়ান মিডিয়া থেকে একটি টিকিট কেনেন।

সূত্র জানায়, টিকিট কালোবাজারিতে অন্তত পাঁচটি সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বুকিং সহকারী জহির রায়হান ও জহর লাল, দালাল নুরুজ্জামান, ইন্দ্রজিৎ, রেলস্টেশনের একটি স্ন্যাকসবারের মালিক কবীর আহমদ, ওয়ান মিডিয়ার আবদুল্লাহ, মুজিব ও অনলাইন মিডিয়ার রুমনসহ অন্তত ২৫-৩০ জন। কদাচিৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দু-একজন দালাল আটক করলেও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত থাকায় টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর