শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০২০ ০২:০০

পাপিয়ার দুই সহযোগী ফের রিমান্ডে

আদালত প্রতিবেদক

পাপিয়ার দুই সহযোগী ফের রিমান্ডে

নরসিংদীর জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার দুই সহযোগীকে ফের তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম রিমান্ডের এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা নূর। এর আগে এ মামলায় আসামিদের পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

১১ মার্চ বিমানবন্দর থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন বহিষ্কৃত যুবলীগ নেত্রী পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীসহ এ দুই আসামিকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। ওই দিন আদালত পাপিয়া ও তার স্বামীর রিমান্ড মঞ্জুর হয়। কিন্তু এ দুই আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে যায়। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পাপিয়া ও তার স্বামীকে দেশীয় ও বিদেশি মুদ্রার উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তায়্যিবার সহযোগিতায় ও পরস্পর যোগসাজশে পাপিয়া, সুমন ও সাব্বির জ্ঞাতসারে জাল মুদ্রা বাজারজাত করার উদ্দেশে বহন এবং বিপুল পরিমাণ সংঘবদ্ধ অপরাধলব্ধ অর্থ পাচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে অপরাধ করেছেন মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। নাম-ঠিকানা যাচাই, জাল টাকাসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ ও বৈদেশিক টাকার উৎসের অনুসন্ধান, জাল টাকা তৈরিতে এবং দেশের অর্থ পাচারের কাজে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণ, অবস্থান নির্ণয় ও গ্রেফতার, অপরাধজগতে আসার কারণ এবং পেছনের শক্তির সন্ধান, অবৈধ মাদক ও অস্ত্রের ব্যবহার, চোরাচালান, অর্থের বিনিময়ে জমি দখল-বেদখল, অনৈতিক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কাজের তথ্য-উপাত্ত উদঘাটন ও যাচাই-বাছাইকরণ এবং উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি কীভাবে ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে, পিস্তল কোথায় কী ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয়, পিস্তল চোরাচালানের মাধ্যম/রুট ও চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্তকরণের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন। এর আগে পাপিয়া ওরফে পিউসহ ওই চারজনকে ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সে সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জালনোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান রুপি ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলের ‘প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট’ ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটির টাকার ওপরে। ওয়েস্টিনের ওই প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট এবং ইন্দিরা রোডে পাপিয়াদের দুটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট ও কিছু বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করার কথা জানায় র‌্যাব। পরে পাপিয়াসহ গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় জাল মুদ্রা উদ্ধারের একটি মামলা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় আরও দুটি মামলা করা হয় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর