শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:১৮

চট্টগ্রাম

করোনায়ও নাড়ির টানে ছুটছে নগরবাসী

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

করোনায়ও নাড়ির টানে ছুটছে নগরবাসী

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঈদুল ফিতরের সময় অধিকাংশ মানুষই যেতে পারেননি গ্রামের বাড়ি। দুই মাস পর এখন সংক্রমণ কিছুটা কমছে। ফলে ঈদুল আজহায় গ্রামের বাড়ির পানে ছুটছে নগরবাসী। মৃত্যু কমলেও প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হওয়ায় ঝুঁকি থেকে যায়। তবুও ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছেন চট্টগ্রাম নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগর ও উপজেলার বাজারগুলোতে দেদার চলছে কোরবানির পশুর বিকিকিনি। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। বাজারে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও অনেকেই পরছেন না। অনেকের কাছে এটি এখন তুচ্ছ বিষয়। অন্যদিকে, নগরের মানুষ ব্যস্ত এখন বাড়ি ফেরায়। নগরের প্রবেশপথ কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা, সিটি গেট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও অক্সিজেন মোড়ে গণপরিবহনগুলোতে ভিড় লক্ষণীয়। গতকাল দুপুরে কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ বাড়ির পানে ছুটতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকে প্রাইভেট গাড়ি বা অটোরিকশা নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে। পটিয়ার যাত্রী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চাকরির কারণে শহরে থাকি।

গত ঈদুল ফিতরের সময় বাড়ি যেতে পারিনি। তাই এবার সপরিবারে বাড়ি যাচ্ছি।’ পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা বলেন, ‘উপজেলার বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তাছাড়া বাজারগুলোতে নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হয়।’  চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘কোরবানির সময় বাড়ি ফেরা এবং নগরে ফেরা- দুটোতেই ঝুঁকি আছে। বিষয়টা সবাই অবগত। তবুও অভ্যাসগত হোক বা নাড়ির টানে হোক সবাই বাড়ি যাচ্ছে। তবে এ  যাত্রাটা কোনোমতেই ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন হয়ে যাতায়াত করতে হবে।’

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৪ হাজার ২১৩ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৯ হাজার ৯৫০ জন ও উপজেলায় ৪ হাজার ২৬৩ জন। চট্টগ্রামে ইতিমধ্যে মারা গেছেন ২৩০ জন। এর মধ্যে মহানগরে ১৬২ জন ও উপজেলায় ৬৮ জন। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ১৮৭ জন। 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সামনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের আওতাধীন দফতর ও সংস্থার মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ‘আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুরহাটে ও ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা ব্যাহত হতে পারে। অনেকেই পশুরহাটে মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করছেন। ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর