শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪৪

মূল্যবান গাছ কাটার মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

মূল্যবান গাছ কাটার মহোৎসব

রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানায় চলছে গাছ কাটার মহোৎসব। বছরখানেকের মধ্যে দফায় দফায় গাছ কাটার ফলে ঐতিহ্যবাহী এ বিনোদন কেন্দ্রটি বিনোদনপ্রেমীদের কাছে গুরুত্ব হারাতে বসেছে। বেশ কয়েকটি স্থান ফাঁকা হয়ে গেছে। সর্বশেষ বুধবার থেকে আবারও গাছ কাটা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতের বড় বড় মূল্যবান শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। তবে এর জন্য কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। দরপত্র ছাড়াই গাছগুলো কাটছেন রাজশাহী মহানগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার রবিন নামের এক ব্যবসায়ী। গত তিন দিন ধরে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফলে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিচালনা করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। চিড়িয়াখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাসিকের কর্মকর্তারা প্রায় আট লাখ টাকায় গাছগুলো বিক্রি করেছেন। দরপত্র ছাড়াই পানির দরে বিক্রি করা এসব গাছের টাকা সংশ্লিষ্টরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার এ জায়গাটি ব্রিটিশ আমলে ছিল ঘোড়দৌড়ের মাঠ। ঘোড়ার রেস ও টমটম বন্ধ হওয়ার পর এ রেসকোর্স ময়দান দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। শহরবাসীর বিনোদনের আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান এখানে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

 ১৯৭২ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্যানে মূল্যবান গাছের চারা রোপণ, ফুল গাছের কোয়ারি ও কুঞ্জ তৈরি, লেক ও পুকুর খনন, কৃত্রিম পাহাড় তৈরি অর্থাৎ সামগ্রিক কাজ ১৯৭৪ সালে শুরু হয় সে সময় এ উদ্যানে কিছু দু®প্রাপ্য বৃক্ষরোপণ করা হয়। সম্প্রতি সেসব গাছের কিছু কাটা পড়েছে নভোথিয়েটার নির্মাণের জায়গা করে দিতে।

বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাসিকের সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন, পার্কে কিছু প্রবেশ করতে বা বের করতে হলে আমাকে জানাতে হবে। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

গাছ কাটা প্রসঙ্গে ব্যবসায়ী রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ নিয়ে তিনি রাসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। চিড়িয়াখানার উদ্ভিদতত্ত্ববিদ হেলেন খাতুন বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনে সাধারণত সব বিরল প্রজাতির গাছ থাকতে হয়। এতো সাধারণ গাছ থাকার তো দরকার নেই। সে জন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কিনা এ ব্যাপারে রাসিকের কর্মকর্তারা বলতে পারবেন বলে তিনি জানান।

চিড়িয়াখানা দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, গাছের ডালপালা কাটার জন্য বলা হয়েছে। গাছ তো কাটতে বলা হয়নি। আর এর জন্য কোনো দরপত্রও হয়েছে কিনা তাও আমার জানা নেই।


আপনার মন্তব্য