শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ০১:২৯

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

কৃষির ক্ষতি কাটাতে আসছে পুনর্বাসন কর্মসূচি : কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাস মহামারী ও চলতি বছরে কয়েক দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার আসন্ন রবি মৌসুমে কয়েকটি ‘পুনর্বাসন কর্মসূচি’ নিচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে গতকাল তাঁর মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পৃথিবীর অনেক দেশেই ইতিমধ্যে মহামারীর কারণে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশকেও খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। তা ছাড়া ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও বাংলাদেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আজ বিশ্বব্যাপী খাদ্য দিবস ২০২০ উদ্যাপন হতে যাচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে ‘সবাইকে নিয়ে একসাথে বিকশিত হোন, শরীরের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ’।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রাজ্জাক বলেন, কয়েক দফা বন্যার পর আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো, কৃষক যাতে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে সেজন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি নেওয়া। আমরা রবি ফসলে ব্যাপক পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা বলছি যে হাইব্রিড বোরো সেটার আরও অনেক বেশি বীজ বিনামূল্যে চাষিদের দেব, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। এখন মোটা চাল ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আমরা মোটা চাল বা হাইব্রিড ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করব, যেন আগামী বোরোয় একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চালের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বোরো ধানের বীজে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা হারে ভর্তুকি দেওয়া হবে। কেজিতে প্রায় ২৫ শতাংশ হলেও আমরা ভর্তুকি দেওয়ার চিন্তা করেছি। আগামী বছর হাইব্রিড বোরো চাষ করার জন্য ১০০ কোটি টাকা চেয়েছি, যাতে বিনামূল্যে চাষিদের হাইব্রিড বীজ দিতে পারি। তিনি বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকের মজুরি ও ধান কাটার সরঞ্জাম কিনতেও সহযোগিতা করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় আগামী বোরো মৌসুমে ধান কাটতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার, রিপার আনবে কৃষি মন্ত্রণালয়। আশা করি, এতে কৃষিশ্রমিকের মজুরি সহনশীল মাত্রায় চলে আসবে।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, বন্যার কারণে আউশ ও পরে আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাক্সিক্ষত ফলন না আসায় চাল আমদানির চিন্তা করছে সরকার।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আউশের জন্য আমরা ২ লাখ হেক্টর জমি টার্গেট করেছিলাম। সেটা অর্জনও করেছিলাম। আগাম বন্যার কারণে আউশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকির কারণ হলো আমন। আমন নিয়েও আমাদের অনিশ্চয়তা আছে। এ পরিস্থিতিতে যদি কিছু ঘাটতিও হয়... যদি আমনের বেশি ক্ষতি হয়ে যায়..., হারভেস্ট করতে না পারি, সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কিছু চাল আনাও লাগতে পারে। সেটা আমরা এখনো কিছুই বলতে পারছি না। আমরা আরও কয়েকটা দিন দেখব। আরও ১৫-২০ দিন পরে বোঝা যাবে আমনের উৎপাদন কী হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি না যে বাংলাদেশে খাদ্য নিয়ে কোনো হাহাকার হবে, যে পরিমাণ খাদ্য আছে। সরকারের যে সোশ্যাল সেইফটিনেট প্রোগ্রাম... খাদ্য যদি ঘাটতি হয়, তাহলে কম মূল্যে, বিনামূল্যে গরিব মানুষের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার নীতিগত অনুমোদনও দিয়ে রেখেছে। তিনি জানান, এ অর্থবছরে চালের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৩ কোটি ৮৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

কৃষিমন্ত্রী আলুর দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, তারা (ব্যবসায়ীরা) আলু কিনেছেন ১৭-১৮ টাকা দরে। কিন্তু এটা তাদের ৪০-৪৫-৫০ টাকা করে কেন বেচতে হবে? লাভের লিপ্সায় ন্যূনতম নৈতিকতা তাদের মধ্যে কাজ করছে না। ১ কেজি আলুতে ২০ টাকা লাভ করা কি মুখের কথা!

তিনি বলেন, আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, বাজারের চাহিদা... তাদের কারসাজির কাছে... তবে আমরা কিন্তু নীরব দর্শকের ভূমিকায় বসে নেই। আমরা মনিটর করছি। আর ২০-২৫ দিন সবজির দাম বেশি থাকবে। তার পরে নতুন সবজি এসে যাবে। এরপর দাম কমে যাবে সবজির।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর