শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:২৩

সেই মোল্লারা বিএনপি জামায়াতের ভাড়াটে খেলোয়াড় : ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক মোল্লারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে অশান্তি সৃষ্টির রাজনীতি করছে। ভাস্কর্যবিরোধী এই রাজনৈতিক মোল্লারা জামায়াত-বিএনপির ভাড়াটে খেলোয়াড় এবং ভাস্কর্য-বিরোধিতার নামে আসলে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত শুরু করেছে। গতকাল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি দিয়ে উত্তেজনা-অশান্তি সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করার দাবিতে ঢাকা মহানগর জাসদ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

  ইনু বলেন, এই রাজনৈতিক মোল্লারা ধর্মীয় চিন্তাবিদ, আলেম, ওলামা, পীর, ধর্ম প্রচারকারী না, এরা সবাই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা।

এরা নির্বাচন করে, ভোটে দাঁড়ায়, এদের নির্বাচনী মার্কা প্রতীক আছে। এরা পবিত্র ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে ধর্মের মনগড়া অপব্যাখ্যা দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থের রাজনীতি করে। তিনি বলেন, এদের ভাস্কর্য-বিরোধিতা বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা, বাংলাদেশের বিরোধিতা, বাঙালিয়ানার বিরোধিতা, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা, সংবিধানের বিরোধিতা। এরা বঙ্গবন্ধুকে দ্বিতীয়বার হত্যা করছে, দেশে ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ইনু অশান্তির উসকানিদাতা এই রাজনৈতিক মোল্লাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মোল্লাদের সামান্য ছাড় দেওয়া, আশকারা দেওয়া, এদের সঙ্গে কোলাকুলি করার কৌশল আত্মঘাতী। সরকারের যে দু-একজন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের যে দু-একজন নেতা আলোচনার মাধ্যমে ভাস্কর্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলে আশা করছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ভাস্কর্যবিরোধীরা জেনেবুঝে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের চক্রান্তে নেমেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মোল্লাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা রাজনৈতিক মোল্লাদের পিঠ চাপড়াবেন, রাজনৈতিক মোল্লারা সুযোগ পেলেই তাদের ঘাড় মটকে দেবেন। এরা ক্ষমার সুযোগ নিয়ে ক্ষমাকারীকে হত্যা করে, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল হানে। রাজনৈতিক মোল্লারা ওয়াজ-ধর্মসভার নামে নারীবিদ্বেষী ‘তেঁতুলতত্ত্ব’ প্রচার করছে। ‘তেঁতুলতত্ত্ব’ শুধু নারী বিদ্বেষীই নয়, সংবিধান ও সভ্যতাবিরোধী।

সাধারণ সম্পাদকের ভাষণে শিরীন আখতার বলেন, ভাস্কর্যবিরোধীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ কিছুই মানে না। নারীদের অসম্মান করে এরা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্ম অবমাননা করছে। এদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সহ-সভাপতি সফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সভাপতি মাইনুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর জাসদের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাসদের সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান মিহির, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন, জাতীয় যুব জোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, পল্টন ও প্রেস ক্লাব প্রদক্ষিণ করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর