শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:০৯

নতুন ধারায় বদলে যাচ্ছে সিলেট মহানগর পুলিশ

আলোচনায় কমিশনারের ‘থ্রি আর পলিসি’

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে এনে টাকার জন্য নির্যাতন করে হত্যা। এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের আসামি গ্রেফতারে ব্যর্থতা। সেবা পেতে সাধারণ মানুষের হয়রানি। বছরের পর বছর ঘুরে ফিরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন। হয়রানি, চাঁদাবাজি আর উৎকোচ বাণিজ্যে ভয়ংকর হয়ে ওঠা ফাঁড়ি পুলিশ। এমন বেহাল অবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে যখন নগরবাসী উদ্বিগ্ন। এই সময়ে এসএমপি কমিশনারের দায়িত্ব নেন নিশারুল আরিফ। নতুন ধারার ‘থ্রি আর পলিসি’ নিয়ে শুরু করেন পুলিশে শুদ্ধি অভিযান। যার বদৌলতে অনেকটা বদলে গেছে মহানগর পুলিশ। আস্থা ফিরতে শুরু করছে সাধারণ মানুষের। এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যুবক রায়হান আহমদ খুন এবং এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় টালমাটাল অবস্থার মধ্যে গত বছরের ২৭ অক্টোবর এসএমপি কমিশনারের দায়িত্ব নেন নিশারুল আরিফ। প্রচ- চাপের মধ্যে মানুষের আস্থা ফেরাতে তৎপর হন তিনি।

এ লক্ষ্যে গ্রহণ করেন ‘থ্রি আর পলিসি’। প্রথমে পুলিশ সদস্যদের মোটিভেশনের (রিপিয়ার) মাধ্যমে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করা, তাতে কাজ না হলে মহানগরের মধ্যে বদলি (রিপ্লেস) এবং শেষ ধাপে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া (রিমুভ)। এই হচ্ছে নিশারুল আরিফের ‘থ্রি আর পলিসি’। এ পলিসিতে ফলও আসতে শুরু করেছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত কিনা, সে ব্যাপারেও রাখা হচ্ছে কড়া নজরদারি। এসএমপির ছয়টি থানার অধীনে যেসব পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে, সেগুলোতে করা হচ্ছে সংস্কারকাজ। বেশ কয়েকটি ফাঁড়ি ও অফিস ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালাত। সেগুলোর জন্য স্থায়ী জায়গা খোঁজার কাজ চলছে। দায়িত্ব পালনকালে এসএমপির কতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে রাত ও ভোরে যারা টহলে থাকেন, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অযথাই হেনস্তা ও হয়রানির নানা অভিযোগ ছিল। বর্তমান কমিশনার সেসব বন্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। এদিকে, অপরাধ দমনে মহানগরীতে ১১০টি সিসি ক্যামেরার কার্যক্রম চলছে। সার্বক্ষণিক এসব ক্যামেরা মনিটরিং করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কিশোর গ্যাং, ইভ টিজার, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করছে এসএমপি। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রথমবারের মতো ‘সার্ভিস ফ্রেন্ডলি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামের অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তথ্য নগরবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা এলাকায় সহস্রাধিক হকারকে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় লালদীঘির পাড়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

এসএমপি সূত্র জানায়, কেউ মামলা বা জিডি করতে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানিতে পড়লে সে অভিযোগ সরাসরি কমিশনারকে জানাতে পারবেন। এ জন্য কমিশনার কার্যালয়ে অভিযোগ বাক্স বসানো হচ্ছে। অনলাইনের মাধ্যমেও যাতে অভিযোগ দেওয়া যায়, সেজন্য বিশেষ সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। অতীতে একেকজন ওসি মহানগরীর ছয়টি থানাতেই বছরের পর বছর ঘুরেফিরে দায়িত্বে থাকতেন। সেই ধারা বদলে দেওয়া হয়েছে। ছয়টি থানার ওসিদের বদলি করে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ ওসিকেই এসএমপির বাইরে বদলি করা হয়। এ ছাড়া এসএমপির ১০টি ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টির ইনচার্জকে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে, সেবার মান বাড়াতেও পুলিশ সদস্যদের যাতায়াতে ছয়টি মাইক্রোবাস ও কার আনা হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দিতে গঠন করা হয়েছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। প্রবাসীদের জন্য রয়েছে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’। অতীতে এসএমপির ছয়টি থানা ওপেন হাউস ডে ছিল অনিয়মিত। এখন প্রত্যেক থানায় দিনক্ষণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কমিশনার নিজেই উপস্থিত থাকেন।

জানতে চাইলে এসএমপি কমিশনার নিশারুল আরিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘অপরাধ দমনে জোর দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার চেষ্টা করছি। হকারদের পুনর্বাসন করেছি। ইভ টিজার, কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। এসএমপিকে মানুষের পরিপূর্ণ আস্থায় নিতে আসতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর