প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:২০

আজ আসতে পারে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের ঘোষণা

হঠাৎ রণক্ষেত্র বগুড়া

মোটর মালিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ কার্যালয় ভাঙচুর, পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

হঠাৎ রণক্ষেত্র বগুড়া
বগুড়ায় মোটর মালিকদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় কার্যালয় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

নেতৃত্বের দখল নিয়ে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসসংযোগের ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে কয়েক শ যুবক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, কর্মীদের মারপিট, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। হামলায় পুলিশ-সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এদিকে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের আলটিমেটাম দিয়েছে।

জানা যায়, জেলা মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে একটি পক্ষের কয়েক শ নেতা-কর্মী একত্র হয়ে হামলা চালাতে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাধা দিলেও তা পেরিয়ে জেলা মোটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে গিয়ে হামলা করে। পরে হামলাকারীরা ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস, কার্যালয়ের দরজা-জানালা, তিনটি বাস ও টার্মিনালে থাকা ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় ছয়টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা লাঠিসোঠা দিয়ে কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে। হামলায় কয়েক শ যুবক লাঠিসোঠা, রড ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। হামলায় গাজী টিভির ক্যামেরা পারসন রাজু আহম্মেদ, এসবির কনস্টেবল মো. রমজান আলী, শ্রমিক আবদুল আলীমসহ ১০ জন আহত হন। বগুড়া মোটর মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তার একপক্ষে রয়েছেন সমিতির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহন, অপরপক্ষে রয়েছেন সমিতির সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা শাহ মো. আখতারুজ্জামান ডিউক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম। মালিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জটিলতা দেখা দিলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায়। সেখানে মঞ্জুরুল আলম মোহনের দায়ের করা মামলায় বগুড়া জেলা প্রশাসনকে সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চিঠির ভিত্তিতে গত ৬ ডিসেম্বর বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সালাহ উদ্দিন কাগজ-কলমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু সমিতির কোনো মালামালসহ অন্যান্য কাগজপত্র মালিক গ্রুপের সভাপতি ডিউক ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের পক্ষ  থেকে বুঝে পাননি। শহরের রাজাবাজার মূল কার্যালয় থেকে ইতিপূর্বেই সে সব মালামাল চারমাথা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। গত ৭ জানুয়ারি সমিতির প্রশাসক বগুড়ার এডিএম পুলিশ নিয়ে চারমাথার ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে গেলে ডিউক ও আমিনুলের অনুসারী বাস মালিক, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। পরে বিষয়টি নিয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বিক্ষুব্ধ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর গতকাল মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক দাবি করে আমিনুল ইসলাম জানান, মঞ্জুরুল আলম মোহনের নেতৃত্বে এ হামলা করা হয়েছে। তিনি সন্ত্রাসী নিয়ে এ ন্যক্কারজনক হামলা করে মালিক, শ্রমিকসহ মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছেন। হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বগুড়া জেলায় ধর্মঘট শুরু হবে। বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের আহ্বায়ক দাবিদার মঞ্জুরুল আলম মোহন জানান, তিনি এসব জানেন না। মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্ব নিয়ে তার নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।  এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় বগুড়া সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক যৌথ কমিটির উপদেষ্টা আবদুল মান্নান আকন্দ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাতের মধ্যে হামলাকারী মঞ্জুরুল আলম মোহনকে গ্রেফতার করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর