শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৫

মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই

ফরিদপুর আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের পক্ষে সাফাই গাওয়া ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পক্ষে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় এখনো দল থেকে ওই দুই নেতাকে বহিষ্কার না করায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, হেফাজত নেতা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে অবরুদ্ধ থাকার পর সেই রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রবিন। সেই পোস্টে তিনি লিখেন, আলহামদুলিল্লাহ, ষড়যন্ত্রের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছেন মামুনুল হক। এ ছাড়া একটি পোস্টের কমেন্টসে তিনি লিখেন, ‘সত্যতা না জেনে তাকে অপরাধী বলব না, সত্যের অপেক্ষায় থাকলাম...’। এদিকে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম জামিল তুহিন তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একই সময় একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘হেফাজত ভাইদের এখন উচিত (নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর) বলে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্ট থেকে মামুনুল হককে উদ্ধার করা’। স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই দুই দায়িত্বশীল নেতার পোস্ট নজরে আসার পর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এসব পোস্টের বিপরীতে কয়েক হাজার কমেন্টস করে বিভিন্ন কথা বলা হয়।

এদের মধ্যে বেশির ভাগই এই দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা জানান, হেফাজতের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা যেভাবে সাফাই গেয়েছেন তা দলের জন্য বিব্রতকর। এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রবিন বলেন, হেফাজত নেতা মামুনুল হক যখন জনতার হাতে ধরা পড়েন তখন আমি মজা করে এই পোস্টগুলো লিখেছিলাম। নিছক মজা করার জন্যই লেখা। ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতার বিষয়টি আমরা জানার পর ফয়সাল আহমেদ রবিন ও এ টি এম জামিল তুহিনকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাদের জবাবের পর বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিকভাবে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর