শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুলাই, ২০২১ ২৩:১২

সিভাসুর গবেষণা

অক্সফোর্ড টিকার দুই ডোজ নিলে আক্রান্তের ঝুঁকি কম

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

Google News

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা নিলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। আক্রান্ত হলেও অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক থাকে এবং তাদের অবস্থা সাধারণত গুরুতর হয় না। একই সঙ্গে এ টিকা বয়স্ক মানুষদের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে পারে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) শিক্ষকদের গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। বৃহস্পতিবার সিভাসু এ গবেষণার ফল প্রকাশ করে। সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ছিলেন অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ খালেদ মোশাররফ হোসেন, ডা. ইফতেখার আহমদ রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রণেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমদ নিজামী। গবেষণায় তারা চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর অঞ্চলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারী ও টিকা গ্রহণ না করা কভিড-১৯ রোগীদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়ন করেন। সিভাসু ও চাঁদপুর কভিড-১৯ শনাক্তকরণ ল্যাবে গত ২২ এপ্রিল ২০২১ থেকে ২২ জুন ২০২১ পর্যন্ত এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। গবেষণায় মোট ১২ হাজার ৯৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ১৩৭ (১৬.৫২ %) জনের ফল করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে। এই আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯৬৮ জন কভিড-১৯ এর টিকা নেননি। অক্সফোর্ডের প্রথম ডোজ নিয়েছেন এমন ৬৩ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এমন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৪। সে হিসাবে মোট নমুনার মধ্যে দশমিক ৪৮ শতাংশ আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন যারা অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। আর দশমিক ৪৯ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছিলেন যারা দুটি ডোজ নিয়েছেন। সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া করোনা পজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৯৫ জনের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা। বাকিরা যোগাযোগ না রাখায় তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি। গবেষণায় অংশ নেওয়া যে ১০ জন কভিড রোগী মারা গেছেন তারা কেউই টিকা নেননি। এ ছাড়া আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন তাদের মধ্যে যারা টিকা নেননি তাদের আক্রান্তের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

আর টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে এ হার প্রায় ১২ শতাংশ। টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এ মুহূর্তে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আশা করি, সবাই টিকার আওতায় এলে আক্রান্তের হার অনেক কমবে। 

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, আক্রান্ত ২ হাজার ১৩৭ জনের মধ্যে টিকা না নেওয়া ৯৬৮ রোগীর ১৩৭ জনকে (১৪.১৫%) হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়াদের মধ্যে যথাক্রমে ৭ জন (১১%) ও ৩ জন (৪.৭%) রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া টিকা না নেওয়া রোগীদের ৮৩ জনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং তাদের মধ্যে ৭৯ জনকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজন হয়। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে টিকা গ্রহণকারী রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক (৯৬.৭%) পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ভর্তি টিকা না নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭ জনকে আইসিইউতে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে টিকা গ্রহণকারী রোগীদের কারও অবস্থা তেমন গুরুতর হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর