শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

চট্টগ্রাম নগরীতে নালায় নালায় বর্জ্যরে স্তূপ

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরের জামাল খান বাইলেনের প্রায় ১০ ফুট প্রস্থের একটি নালা। দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি নালা নাকি পরিত্যক্ত বর্জ্যাগার। একইভাবে রহমতগঞ্জের কেবি আবদুস সাত্তার সড়কের নালাটিও বর্জ্যরে ভাগাড়। পানি চলাচলের কোনো চিহ্ন দেখা যায় না। সিরাজুদ্দৌলা রোডের সাব এরিয়া ব্রিজের দুই পাশের খালটি দেখে বোঝার উপায় নেই- এটি খাল নাকি বর্জ্যরে স্তূপ। চকবাজার ধুনিরপুলের উত্তর পাশে চাক্তাই খালটিও এখন আবর্জনার ভাগাড়। এভাবে চট্টগ্রাম নগরের নালা-নর্দমা, ড্রেন ও ছোট ছোট খালগুলো বর্জ্যরে স্তূপে পরিণত হয়েছে। অনেক খাল-নালার ওপর গজে উঠেছে ছোট ছোট গাছ, নানারকম লতাপাতা।  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নগরের নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার করার কথা। সংস্থাটির দাবিও তারা পরিষ্কার করে। বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সব পরিসংখ্যান অনেকটা কাগুজে। ফলে নগরের নালা-খালগুলো আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। নালাগুলো দিয়ে চলাচল করতে পারে না পানি। তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। জন্ম নেয় এডিস মশা। মানুষ আক্রান্ত হয় মশায়। হয় ডেঙ্গুজ¦র। অভিযোগ আছে, চসিক নিয়মিত নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার কথা বললেও তা করা হয় না। মোহরা, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, উত্তর হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহরের মতো প্রত্যন্ত ওয়ার্ডগুলোতে পরিচ্ছন্ন কর্মী দেখা যায় কালেভদ্রে। নালাগুলোতে দিনের পর দিন বর্জ্য পড়ে থাকে।  চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চসিকে বড় নালা আছে ১৫১টি এবং ছোট নালা আছে ১ হাজার ৫০০টি। ছোট ড্রেন আছে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার এবং ৩ ফুট প্রস্থের বড় ড্রেন আছে ৬৫১ কিলোমিটার। চসিক এসব নালা নর্দমা থেকে দৈনিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টন বর্জ্য অপসারণ করে। বর্জ্য অপসারণে আছে ভ্যান, টম টম, ট্রাক, কনটেইনারসহ নানা যানবাহন। বর্তমানে পরিচ্ছন্ন বিভাগে ডোর টু ডোর কর্মসূচিসহ মোট জনবল আছে ৩ হাজার ৫৯৫ জন। চসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই নিয়মিত নগরের আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করা হয়। নগরের ছোট ছোট ড্রেন-নালা-নর্দমাগুলোর ৮০ শতাংশ পরিষ্কার আছে। তিন ফুট প্রস্থের চওড়া নালাগুলো জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় পরিষ্কার করা হয়। তবুও বড় নালাগুলো থেকে স্কেটার দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। জানা যায়, নগরজুড়েই আছে বর্জ্যযুক্ত নালা। এসব নালায় পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। গত সোমবার রাতে নগরের আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়ের পূর্বে খোলা নালায় পড়ে প্রাণ হারান আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া। টানা পাঁচ ঘণ্টা অভিযানের পর গভীর বর্জ্য থেকে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুর মোড়ে পা পিছলে নালায় পড়ে মুহূর্তেই পানির স্রোতে তলিয়ে যান ব্যবসায়ী সালেহ আহমদ (৫০)। এক মাস পার হলেও মিলেনি ওই ব্যবসায়ীর খোঁজ। গত ৩০ জুন নগরের মেয়র গলির চশমা খালে পড়ে মারা যান অটোরিকশাচালক সুলতান (৩৫) ও যাত্রী খাদিজা বেগম (৬৫)। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই আগ্রাবাদ সিঅ্যান্ডবি কলোনির পাশে বিল্লাপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার সময় নালায় পড়ে অটোরিকশাচালক ও যাত্রীর মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালের ২ জুলাই রাতে নগরের এম এম আলী রোডের নালায় পড়ে মারা যান সকরারি কর্মকর্তা শলীব্রত বড়ুয়া। গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে নালায় ব্যবসায়ী নিখোঁজের পর চসিক নগরের নালা-ড্রেনে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ঘটনাস্থল বাঁশ দিয়ে ঘেরাও দেওয়া ছাড়া আর কোথাও কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সর্বশেষ খবর