শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ টা

অবশেষে ফোরকানসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আউটসোর্সিং খাতে নিয়োজিত জনবলের বেতন-ভাতাদি পরিশোধের স্মারক দিয়ে জেনারেল হাসপাতালের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার ভুয়া বিল তৈরির অভিযোগে হিসাবরক্ষক মো. ফোরকানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রামে এ অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগপত্রে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ফোরকান ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তিনজনের নাম আছে বলে জানা যায়। এর আগে পাঁচলাইশ থানা ও কোতোয়ালি থানায় জিডি করার নামে প্রায় দুই দিন সময়ক্ষেপণ করা হয়।  

দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক নাজমুছ সাদাত বলেন, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দুদক কার্যালয়ে এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে হাসপাতালের এক কর্মকর্তাসহ চারজনের নাম উল্লেখ আছে। আমরা অভিযোগটি গ্রহণ করে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করব। এরপর সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।  

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বিল নিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে দুদকে একটা অভিযোগ জমা দিয়েছি। এখন এ ঘটনার সত্যতা উদঘাটন হওয়া দরকার। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে কে কী করেছে।  

জানা যায়, জেনারেল হাসপাতালের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ ফোরকান  চমেক হাসপাতালের একটি স্মারক নম্বরে জেনারেল হাসপাতালের বিলের কাগজে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের আটকে যাওয়া ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিল পাস করানোর চেষ্টা করেন। ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ২০১৩-১৪ অর্থবছরের মেসার্স আহম্মেদ এন্টারপ্রাইজ কর্তৃক ৮টি আইসিইউ বেড ও ৮টি ভেন্টিলেটর এবং ১টি কার্ডিয়াক পেশেন্ট মনিটরের বকেয়া বিল ৫ কোটি ৩৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য চেষ্টা করে। এ জন্য তিনি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তত্ত্বাবধায়কের স্বাক্ষরও করিয়ে নেন। গত মঙ্গলবার  তত্ত্বাবধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া বিলটি নিয়ে বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রণ অফিসে গেলে সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে ফোরকানকে পাঁচলাইশ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনা শুনে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি থানায় গিয়ে নিজের জিম্মায় ফোরকানকে ছাড়িয়ে আনেন। পরে পাঁচলাইশ থানা থেকে অভিযোগ দায়েরের জন্য কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু দুদকে মামলাটি চলমান থাকায় থানার পরামর্শে দুদকে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এদিকে এ ঘটনা তদন্তে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহকে সভাপতি ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুমন বড়ুয়াকে সদস্য সচিব এবং চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরীকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। জেনারেল হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে ফোরকানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর