শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২০ জুন, ২০২৩ ০০:০০ টা

রংপুরে বন্যার পদধ্বনি

বেড়েছে তিস্তাসহ নদ-নদীর পানি, পাঁচ হাজার মানুষ দুর্ভোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে বন্যার পদধ্বনি

উজানে ভারী বর্ষণ ও নেমে আসা ঢলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।  তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার ফলে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদী এলাকায় হলুদ সতর্ক ও সংকেত জারি করা হয়েছে। রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামে কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, তিস্তার উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গত পাঁচ দিনে তিস্তা নদীর পানি সমতল পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল। গতকাল সকাল ৬টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ডালিয়া পয়েন্টের পানি ৫২ দশমিক ২০ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা উপজেলার মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার পরিবার, গজঘণ্টা ইউনিয়নে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান। এদিকে কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় তার ইউনিয়নে  জয়রাম ওঝা, কেল্লারপাড়, শংকরদহ, বাগের হাট, চর ইচলি এলাকার প্রায় আড়াই হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সবাই সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গজঘণ্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, রবিবার সকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ে তার ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদ-নদী পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার নদীর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ী, খালিশা চাপানী ইউনিয়ন  ছোটখাতা, বাইশ পুকুর, উত্তরা বাজার, খগাখড়িবাড়ী  ইউনিয়ন কিশামত চর প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায়  ভোগান্তিতে পড়েছে তিস্তাপাড়ের মানুষ।

চর এলাকায় চাষাবাদের জন্য বসবাসরত লোকজন উঁচু এলাকায় চলে আসছেন। জুনাগাছ চাপানি চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, তার দুটি ওয়ার্ডে কয়েকশ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিস্তাপাড়ের সবার মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন  বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা জানিয়েছেন, ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর ভাটিতে থাকা হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার রাজপুর ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার চরসহ নিম্নাঞ্চলে আবাদ করা বাদাম, পাট, সবজিসহ মৌসুমি ফসলগুলো ডুবে গেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক আহমেদ আলী জানান, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে খাল, বিল সব ভরে গেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার মতিয়ার রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি খুবই দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন চরগুলোতে পানি প্রবেশ করছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নসহ বেশকিছু চলাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যেসব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে চর মাদারী পাড়া, কানি চরিতাবাড়ী, পাড়াসাধু। হরিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি বলেন, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় এলাকায় বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। লোকজন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর