শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ২১:০০
আপডেট : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ২১:২৩

কুড়িগ্রামে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ১০ টাকায় চাল বিক্রি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

কুড়িগ্রামে সামাজিক দূরত্ব না মেনে ১০ টাকায় চাল বিক্রি

মঙ্গলবার সকাল ১০টা। কুড়িগ্রামের জেলা সদরের পৌরসভা সংলগ্ন মাহবুবার রহমান ডিলারের দোকান ও কলেজ মোড়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন। সামাজিক দূরত্বের কথা বিবেচনা না করে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ১০ টাকা মূল্যের চাল কেনার হিড়িক পড়ে। ছিলো না কোন পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কেউ।এলোমেলোভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের আইডি কার্ড প্রদর্শন করে কিনছেন মাত্র ৫ কেজি চাল। 

কথা হয় ডাকবাংলা পাড়ার সফিকুল মিয়া ও নিমবাগানের মোকছেদ আলীর সাথে। তারা জানান, আমরা গত কয়েকদিন যাবত করোনার কারণে ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না। চাল ১০ টাকা কেজি বিক্রির কথা শুনে দৌঁড়ে এসেছি কিনতে। কিন্তু এত বড় লাইন এবং সবাই একসাথে। কীভাবে করোনাভাইরাস মোকাবেলা হবে? সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় জেলায় ২৩ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে ওএমএস এর চাল বিক্রির কার্যক্রম গত রবিবার শুরু হয়েছে। সপ্তাহে তিনদিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার শহরের ১০টি পয়েন্টে বিক্রি করা হচ্ছে এ চাল। মঙ্গলবার ২য় দিনের মত চাল বিক্রি হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় তিনটার আগেই দুপুর একটার মধ্যেই বরাদ্দকৃত চাল শেষ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পৌরসভার বাইরে তিনজন ডিলারের মধ্যে নাগেশ্বরীতে ২ জন এবং উলিপুর উপজেলায় ১ জন ডিলার ১ টন করে চাল বিক্রি করছেন। প্রতিটি পরিবার ভোটার আইডির ফটোকপি জমা দিয়ে কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ ৫ কেজি চাল কিনবেন। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার পৌরসভা সংলগ্ন, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে, কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল ও ভোকেশনাল এলাকায় চাল কিনতে আসা মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনে গায়ে গা ঘেঁষে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে নিজেদেরকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন তারা।

এছাড়াও সবগুলো ওএমএস কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকেই লোকজন চাল কিনতে ভীড় করছিলেন।খাদ্য বিভাগের জনবল সংকট ও চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে দুপুর একটার আগেই শেষ হয়ে যায় চাল বিক্রি কার্যক্রম। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সমস্যা স্বীকার করে জানান, শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসকের কাছে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে জনবল সংকটে তা হচ্ছে না। তবে তিনি জানান, অচিরেই এ সমস্যা সমাধান হবে। জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম জানান, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পরবর্তীতে ক্রেতাদের তালিকা তৈরি করে ওয়ার্ড পর্যায়ে এ চাল বিক্রির কার্যক্রম চালু করা হবে।   

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য