শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১০:১৪
প্রিন্ট করুন printer

কানাডায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ছাড়ালো

কানাডা প্রতিনিধি

কানাডায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ছাড়ালো
ফাইল ছবি

কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ অন্টারিও, বৃটিশ কলম্বিয়া, আলবার্টা, এবং কুইবেকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হাসপাতাল, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ব্যাপকহারে চাপ পড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ১১ হাজার ৭৯৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার ৯২৩ জন।

কানাডার সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান 'বড়দিনে'-এর এখনো এক মাস বাকি। কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের প্রিমিয়াররা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন কিভাবে কানাডিয়ানদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুশৃংখল নিয়ন্ত্রণ এবং ছুটির উপভোগ্য সময়গুলোতে ভারসাম্য তৈরি করা যায়।

কানাডার প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. থেরেসা ট্যাম কানাডিয়ানদের মহামারি চলাকালীন ছুটির মৌসুমে সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে জমায়েত সীমাবদ্ধ করা এবং প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে না যাওয়ার ব্যাপারে আবারো সতর্ক করেছেন। দেশজুড়ে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে জানিয়ে সকল কানাডিয়ানকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি। 

এর আগে তিনি বলেছিলেন, কানাডায় যে অনুপাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে করে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন বর্তমানে প্রতিদিনের গণানার তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডিয়ানরা ২০২১ সালের শুরুর দিকে প্রথম ডোজ কোভিড-১৯ টিকা পাওয়ার আশা করতে পারে। যেসব দেশ নিজেরাই টিকা উৎপাদনে সক্ষম তাদের তুলনায় দেরি করে তারা তা পাবে।

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ইতিমধ্যে গত সোমবার থেকে টরন্টো এবং পিল অঞ্চলকে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। লকডাউনে জিমনেসিয়াম ও ব্যক্তিগত পরিষেবাসহ অপ্রয়োজনীয় ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকবে এবং লকডাউনের আওতায় হটস্পট এলাকাগুলোতে হোটেল রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়া বন্ধ এবং সীমিতসংখ্যক লোকজনের চলাচল ও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

ম্যানিটোবা প্রিমিয়ার ব্রায়ান প্যালিস্টার তার প্রদেশকে  সমাবেশ ছাড়াই ক্রিসমাসের পরিকল্পনা করার কথা বলেছেন। আলবার্টায় ক্রমবর্ধমান হারে  করোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতাল ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র গুলোতে চাপ পড়ছে।

সারা কানাডার মধ্যে আলবার্টায় এখন সর্বোচ্চ করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা রয়েছে। নতুন করে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।ইতিমধ্যে আগামী ৩০শে নভেম্বর থেকে সপ্তম থেকে গ্রেট ১২ পর্যন্ত ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীদের ঘরে বসে ক্লাস করার জন্য বলা হয়েছে। আলবার্টার ক্যালগেরির সিটি মেয়র নাহিদ ন্যান্সি ক্যালগেরি সিটিকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

কানাডার  ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে।  সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি, সরকার কর্তৃক বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেয়া সত্বেও করোনা ভাইরাস কে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত করা যাচ্ছে না। 

কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের বাসিন্দারা আশঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছেন। একদিকে, শীতের প্রকোপ অন্যদিকে, করোনা ভাইরাসের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তবুও প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিন আর সুদিনের অপেক্ষায় কানাডাবাসী।

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:০৬
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সর্বশেষ তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সর্বশেষ তথ্য

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ হাজার ৭২ জনের।

নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৫২৮ জন। সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪৪ জনে।

বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩০
প্রিন্ট করুন printer

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেয়া হবে করোনার ১২ হাজার ডোজ টিকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেয়া হবে করোনার ১২ হাজার ডোজ টিকা

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ। প্রথম পর্যায়ে করোনাযুদ্ধের ফ্রন্টলাইনারদের টিকা দেয়া হবে। বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। টিকাদানের জন্য সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চিকিৎসক ও টিকাদানকর্মীদের প্রশিক্ষণও শেষ পর্যায়ে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন পর্যন্ত মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮০০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৫ জন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলায় সরকারিভাবে টিকাদান শুরু হবে। দুই-তিনদিনের মধ্যেই জেলায় ১২ হাজার ডোজ টিকা এসে পৌঁছাবে। এরপর সেগুলো কোল্ড স্টোরে সংরক্ষণ করা হবে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে টিকা দেয়া হবে।

টিকা প্রদানের জন্য চিকিৎসক ও টিকাদানকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলছে। আর টিকাদানের জন্য জেলা সদরে আটটটি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দুইটি করে টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে দুইজন করে টিকাদানকর্মী ও চারজন করে স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।

সিভিল সার্জন মোহম্মদ একরাম উল্লাহ বলেন, টিকাদানের জন্য আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টিকা আসার পর সেগুলো সংরক্ষণ করার জন্য সংরক্ষণাগারও প্রস্তুত করা হয়েছে। টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন করার পর টিকাগ্রহীতার মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে, তিনি কবে-কোথায় টিকা গ্রহণ করবেন। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই ফ্রন্টলাইনারদের টিকা প্রদানের মাধ্যমে টিকাদান কর্মক্রম শুরু হবে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৪:৩৪
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৫:২৩
প্রিন্ট করুন printer

সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল আমেরিকানকে টিকা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি :

সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল আমেরিকানকে টিকা

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সকল আমেরিকানকে করোনার টিকা প্রদানের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা পরিবর্তন করে দৈনিক দেড় মিলিয়নের কথাও বললেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির এই প্রেসিডেন্ট। 

মঙ্গলবার প্রদত্ত এসব কর্মসূচির তথ্য উপস্থাপনকালে বাইডেন পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে, করোনা মহামারিকে যুদ্ধাবস্থা বিবেচনায় সকলকে সোচ্চার থাকতে হবে। পাশাপাশি টিকা প্রদানের কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হলেই এ যুদ্ধে জিতবে আমেরিকা। এ সময় বাইডেন আরো বলেছেন, সামনের সপ্তাহ থেকে টিকার সরবরাহ ব্যবস্থা ট্র্যাকে ফিরবে। দ্রুতই আরো ২০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের কথাও জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। 

গ্রীষ্মকালের মধ্যেই সকল আমেরিকানকে টিকা প্রদানের এই পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, আমরা জানি কভিড-১৯কে কীভাবে পরাস্থ করতে হবে। সেটি হচ্ছে সম্মিলিতভাবে। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করতে। আর আমরা সবকিছু করবো বিজ্ঞানসম্মতভাবে, বাস্তবতার আলোকে। রাজনৈতিক মতলবে নয়। সত্যকে মেনে নিয়ে, ভয়াবহতাকে অবজ্ঞা না করে, করোনা দমনে বিস্তারিত কর্মসূচিতে আমরা এগুবো। 

ঘোষিত পরিকল্পনার আলোকে আরো ১০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন কেনা হবে ফাইজার-বায়োএনটেক থেকে এবং আরো ১০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন ক্রয় করতে হবে মডার্না থেকে। ইউএস ফুড এ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)এর নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেককে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে দুটি করে ডোজ নিতে হচ্ছে। বাইডেনের চাহিদার পরিপূরক টিকা সরবরাহের জন্যে কোম্পানীগুলো উৎপাদন জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। বাইডেন বলেন, গ্রীষ্মের মধ্যেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভ্যাকসিন স্টেটসমূহে পৌঁছে যাবে। 

উল্লেখ্য, করোনার টিকা বিনামূল্যে পাচ্ছেন আমেরিকানরা। নতুন এ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্যাকসিন ক্রয়ের পরিমাণ ৪০০ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬০০ মিলিয়ন হবে। একেকজনের দুৃই ডোজ করে মোট ৩০০ মিলিয়ন আমেরিকানের জন্যে তা যথেষ্ঠ। জনসংখ্যা ৩৩০ মিলিয়ন তথা ৩৩ কোটি হলেও শিশুরা বাদ যাবে। দুই বছরের কম বয়েসী শিশুর টিকার প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। 

করোনার টিকা সরবরাহ ব্যবস্থায় যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল তা দ্রুতই কেটে যাবে বলে উল্লেখ করেন বাইডেন। তিনি বলেছেন সাপ্তাহিক সাপ্লাইয়ের কোটা পুরোদমে চালু হবে সকল গন্তব্যে। বর্তমানে সপ্তাহে ৮৬ লাখ ভ্যাকসিনের সরবরাহ ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা ১০ মিলিয়নে উত্তীর্ণ করার কথা বলেছেন তিনি। একইসাথে স্টেটসমূহে যাতে এক সপ্তাহের টিকা মজুদের স্থলে তিন সপ্তাহের মজুদ করা যায় সে পথেও হাঁটছে হোয়াইট হাউজ। তাহলে সাপ্লাইয়ের সংকট কোন কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না। বাইডেনের কোভিড সম্পর্কিত সমন্বয়কারি জেফ জিয়েন্টস নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটের গভর্ণরকে মঙ্গলবার বিকেলে ফোন করে জানিয়েছেন সামনের সপ্তাহ থেকে তারা পূর্বঘোষিত পরিমাণের চেয়ে ১৬% বেশি ভ্যাকসিনের সরবরাহ পাবেন। 

সিডিসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ২ কোটি ২৭ লাখ আমেরিকানকে টিকা প্রদান করা হয়েছে। ঐ সময়ের মধ্যে করোনায় মারা গেছেন ৪ লাখ ২১ হাজার ৮০০ আমেরিকান।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৩:১৩
প্রিন্ট করুন printer

অবিশ্বাস্য, করোনাকে পরাজিত করে ১১০ বছরে পা রাখলেন তিনি!

অনলাইন ডেস্ক

অবিশ্বাস্য, করোনাকে পরাজিত করে ১১০ বছরে পা রাখলেন তিনি!
হিলদা ব্রাউন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। তরুণ-তরুণী-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই রয়েছেন মৃত্যুর তালিকা। করোনাভাইরাসে তাণ্ডবে যখন বিশ্ববাসী চরম দিশেহারা, তখন অবিশ্বাস্যভাবে এই ভাইরাসকে জয় করলেন ১১০ বছরবয়সী এক বৃদ্ধা। নাম তার হিলদা ব্রাউন।

ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার নিউজার্সিতে। নিউজার্সির টলউড কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন হিলদা ব্রাউন। সেখানেই গত সপ্তাহে বিশেষ একটি উপহার এল। এটি হল ১১০টি গোলাপের তোড়া। এর প্রতিটি গোলাপ হিলদা ব্রাউনের জীবনের এক একটি বছরের প্রতিনিধিত্ব করে। অর্থাৎ তিনি জানিয়ে দিলেন ১১০ বছর বয়সে তিনি এখনও বেঁচে আছেন। হালিদা ব্রাউন করোনাভাইরাসকে পরাজিত করে সুস্থ হয়েছেন। তারপর গত ২০ জানুয়ারি তার বয়স হয়েছে ১১০ বছর। এ জন্য ওই কেয়ার সেন্টারের পাঠানো হয়েছে ১১০টি গোলাপ।

এর মধ্য দিয়ে হিলদা ব্রাউন সুপারসেন্টেনারিয়ান ক্লাবে পৌঁছে গেলেন। এই ক্লাবে ওইসব মানুষকে ধরা হয়, যাদের বয়স ১১০ বছর বা তারও বেশি। জেরোনটোলজি উইকি ওয়েবসাইট অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে এমন বয়সী মানুষ আছেন ৭৬ জন। নভেম্বরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন হালিদা ব্রাউন। তারপর সুস্থ হয়ে তিনি ওই ক্লাবের মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন। এমন অর্জনে তার ‘গ্রেট-নাইস’ ক্রিস্টেন হাউ বলেছেন, আমরা পুরোমাত্রায় বিস্মিত। আমাদের পুরো পরিবার আনন্দে ভাসছে। খবর ইউএসএ টুডে’র।

ক্রিস্টেন হাউ বলেছেন, মধ্য নভেম্বরে তাদের পরিবারে খবর যায় যে, হিলদা ব্রাউনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে গিয়েছিলেন এমন একজনের দেহে করোনাভাইরাস পজেটিভ ধরা পড়েছে। এরপর তার পরিবারকে আরও জানানো হয় হালিদার রুমমেটও করোনা পজেটিভ। এর পর পরই হালিদা ব্রাউনের পরীক্ষা করানো হয়। তাতে তার করোনাভাইরাস পজেটিভ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়। হাউ বলেছেন, তখন তার মধ্যে কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। আমাদের বড় উদ্বেগ ছিল, তাকে যারা দেখাশোনা করতেন তাদেরকে পালাক্রমে পাল্টানো হচ্ছিল। তাকে যেসব নার্স দেখাশোনা করতেন, যারা তার যত্ন নিতেন তাদের সবার সঙ্গে তার ছিল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কিন্তু আস্তে আস্তে হালিদা ব্রাউনের অক্সিজেন লেভেল কমে আসতে থাকে। এ সময় হালিদাকে সরবরাহ দেওয়ার মতো মাত্র এক মাসের অক্সিজেন মজুত ছিল।

ক্রিস্টেন হাউ বলেছেন, সম্প্রতি আমাদেরকে বলা হয় তার আর বাড়তি অক্সিজেন প্রয়োজন নেই। তাকে তার রুমে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে তিনি কিছু খাচ্ছিলেন না। ফলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। নিরাপত্তার কারণে কাচের জানালার ভিতর দিয়ে আমরা তাকে ওই কেয়ার সেন্টারে দেখতে যাই। দেখতে পাই তিনি সচেতন আছেন। কথা বলছেন। স্বাভাবিক কথা বলছেন।

জানা গেছে, বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ যে বছর ডুবে যায়, তখন তার বয়স ছিল এক বছর। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর ভিতর দিয়ে তিনি বেঁচে আছেন। তার বয়স যখন ৩০-এর দশকে তখন তিনি নিজের বাসস্থান ছেড়ে নিউজার্সির ফোর্ট লি’তে চলে যান। চার দশক ধরে সেখানে তিনি একজন ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৮০ সালে অবসরে যান। ৯৩ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্তু তিনি নিজের গাড়ি নিজেই চালাতেন। ১০৩ বছর বয়স পর্যন্ত হাঁটাচলা করেছেন। ১০৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিজের হাতে পোশাক বুনেছেন। জীবনের বেশির ভাগ সময় অন্যের সেবায় কাজ করেছেন। গত বছর তিনি বলেছিলেন, কে এত দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে? আমাদের ১০ ভাইবোনের মধ্যে শুধু আমিই বেঁচে আছি। বাকিরা সবাই মরে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী মানুষদের তালিকা করে জেরোনটোলজি রিসার্স গ্রুপ নামে একটি সংস্থা। এর রবার্ট ইয়াং বলেছেন, প্রতি ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে একজন মাত্র মানুষ পাওয়া যায়, যিনি ১১০ বছর বা তারও বেশি পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। জেরোনটোলজি উইকি’র তালিকায় এমন বয়সী আরও দু’জন মানুষ আছেন নিউজার্সির। তবে তাদের মধ্যে হালিদা ব্রাউনের বয়সটাই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বয়সী হিসেবে এখনও বেঁচে আছেন নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ার হেস্টার ফোর্ড। তার বয়স এখন ১১৫ বছর। 

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

প্রথম করোনার টিকা নিতে যাওয়া কে এই রুনু?

অনলাইন ডেস্ক

প্রথম করোনার টিকা নিতে যাওয়া কে এই রুনু?
রুনু বেরুনিকা ডি কস্তা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে শুরু হতে যাচ্ছে কাঙ্খিত করোনা টিকাদান কর্মসূচি। প্রথম দিনে ২৫ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে প্রথম করোনার টিকা নেবেন রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু বেরুনিকা ডি কস্তা। রুনুর সঙ্গে একই হাসপাতালের দু'জন সিনিয়র স্টাফ নার্স মুন্নী খাতুন ও রিনা সরকারও টিকা নেবেন।

চিকিৎসক হিসেবে প্রথম টিকা নেবেন মেডিসিন কনসালট‌্যান্ট ডা. আহমেদ লুৎফর মবিন। এছাড়াও করোনার টিকা নেবেন আরো দুই চিকিৎসক। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি।  

রাজধানীর যে পাঁচ হাসপাতালে টিকা দেওয়া হবে, তা হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর