শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৩৪
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:৪০
প্রিন্ট করুন printer

টিকা কূটনীতি ‌‘যুদ্ধে’ চীনকে হারাল ভারত

অনলাইন ডেস্ক

টিকা কূটনীতি ‌‘যুদ্ধে’ চীনকে হারাল ভারত
প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা কূটনীতি ‘যুদ্ধে’ চীনকে হারিয়ে দিয়েছে ভারত। উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টায় বেইজিংকে পেছনে ফেলেছে নয়াদিল্লি।  

সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ’র এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারি চীনকে পেছনে ফেলে বৈশ্বিক শক্তি অর্জনের কূটনৈতিক সুযোগ করে দিয়েছে ভারতকে। ভারতের ওষুধ শিল্প, বিশেষ করে দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউট, ইতোমধ্যেই উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রধান ওষুধ সরবরাহকারী সংস্থা হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি ডোজ টিকা রফতানি করেছে ভারত।

অপরদিকে গরিব দেশগুলোতে কম দামে কিংবা বিনামূল্যে করোনার টিকা সরবরাহ করে আগামী কয়েক বছর বিশ্ববাজারে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল চীনের। প্রাথমিকভাবে দেশটি দৃঢ় অবস্থানেও ছিল।

নিজ দেশে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে টিকার উৎপাদনকে গতিশীল করেছে চীন। বিশ্বজুড়ে জনগণের আস্থা তৈরিতে চীনের ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলো তাদের টিকা ট্রায়ালের বিবরণ প্রকাশ করে। চীনের ১৪০ কোটি জনগণকে সুরক্ষিত করতে তারা নিজ দেশে জরুরিভিত্তিতে টিকা প্রয়োগ শুরু করে এবং চীনের জনগণকে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়।

অন্যদিকে, ভারত নিজ থেকে টিকা কর্মসূচি শুরুর কম সময়ের মধ্যেই প্রতিবেশী  বাংলাদেশ, নেপাল, ও শ্রীলঙ্কায় কয়েক লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে। ফলে এই দেশগুলো চীনের টিকার জন্য অপেক্ষা না করে, টিকা কর্মসূচি শুরু করে দিয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা এরান বিক্রমরত্নে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভারতের উপহারের কারণে শ্রীলঙ্কা দ্রুত টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছে। বেশিরভাগ শ্রীলঙ্কান এ জন্য কৃতজ্ঞ।’ তিনি নিজেও ভারতীয় টিকা নিয়েছেন বলে জানান।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৮ লাখ টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করেছে ভারত। ব্লুমবার্গ’র তথ্য মতে, চীন বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা সবগুলো পৌঁছে দিতে পারেনি।

মিয়ানমারে প্রায় ৩ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চীন। এখনো এর সরবরাহ শুরু করতে পারেনি দেশটি। অন্যদিকে, মিয়ানমারে ১৪ লাখ ডোজ সরবরাহ করেছে ভারত।

ভারত জানিয়েছে, ভারত টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তার নিজের জনগণকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে টিকা তৈরির ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা থাকায় নিজের নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যদেশের চাহিদাও পূরণ করতে পারছে।

ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে, ভারতের টিকা নিয়ে শুরুতে বাংলাদেশে অনাগ্রহ দেখা গেলেও এখন অনেকেই টিকা নিচ্ছেন।  

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ, এমনকি দূরবর্তী ডোমিনিকান ও বার্বাডোসকেও সাশ্রয়ীমূল্যে টিকা সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে ভারত। প্রাথমিক শিপমেন্ট বিনামূল্যে হওয়ার কথাও জানিয়েছে।

এমনকি, চীনের সীমান্তেও ভারতীয় ভ্যাকসিন পৌঁছে গেছে। ভারতের সরবরাহ করা দেড় লাখ ডোজ টিকা বিনামূল্যে পেয়েছে মঙ্গোলিয়া।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোডো ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান চীনা টিকা নিয়েছেন। ভারতের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পাকিস্তানেরও ভরসা চীনা টিকা। পাকিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য চীন প্রায় ৭০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে।

এদিকে চীনের সিনোফার্ম গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড, ক্যানসিনো বায়োলজিকস ও চংকিং ঝিফেইই বায়োলজিকাল প্রোডাক্টস কোম্পানির উৎপাদিত টিকা পাকিস্তান, তুরস্ক, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও  সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া এক ডজনেরও বেশি দেশকে টিকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন।

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ 

 
 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর