শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মে, ২০১৮ ০১:৩৭

রিমান্ডে রানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন

দাবি পুলিশের

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার দুপুর থেকে টাঙ্গাইল পুলিশ অফিসে রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার সকালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে এমপি রানাকে টাঙ্গাইল নিয়ে আসে। দুপুর থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমপি রানা যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সে তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পুলিশ সূত্র জানায়, এমপি রানাকে শনিবার দুপুর থেকে রবিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পরে কয়েক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে রবিবার সকালে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ এসব তথ্য জানান।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন হত্যা মামলায় গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল মাসুম রানার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এমপি রানা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলারও প্রধান আসামি। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে গত ২ মে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামির জবানবন্দিতে এমপি আমানুর রহমান খান রানার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে এসেছে। তাই এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত করে পুলিশ ওই বছর ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ গত বছর ১১ মার্চ, শাহাদত হোসেন ১৬ মার্চ এবং হিরণ মিয়া ২৭ এপ্রিল আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন এমপি রানার দিকনির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর