শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৮

আলো ছড়াচ্ছে দিলারা ভাবীর পাঠশালা

মেহেরপুর প্রতিনিধি

আলো ছড়াচ্ছে দিলারা ভাবীর পাঠশালা

নিরক্ষর নারীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে নিভৃতে কাজ করছে দিলারা ভাবীর পাঠশালা। মেহেরপুর গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিলারা আফরোজ। গাংনী র‌্যাব ক্যাম্প পাড়ায় নিজ বাড়িতে খুলে বসেছেন এ পাঠশালা। শিক্ষাবঞ্চিত নারীদের কাছে আলো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তিনি। বই-খাতাসহ শিক্ষার আনুষঙ্গিক সামগ্রীও তিনি কিনে দিচ্ছেন। দিলারা আফরোজ বলেন, শুরুটা ২০১৬ সালের এপ্রিলে। কয়েকজন প্রতিবেশী গৃহবধূ সমিতি থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য সাক্ষর শিখতে আসেন তার কাছে। তখন তিনি তাদের পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। নিজ বাড়ির এক কক্ষে ১২ জন নিরক্ষর বয়স্ক নারী নিয়ে শিক্ষাদান শুরু করেন তিনি। এখন তার পাঠশালায় ছাত্রী সংখ্যা ২৮। এর মধ্যে ১২ জন প্রথম শ্রেণির গন্ডি পেরিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠেছেন। শিক্ষার্থী নাসিমা জানান, তার স্বামী দীনমজুর। প্রায়ই সমিতি থেকে ঋণ নিতে কিংবা ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলে স্বাক্ষর করা লাগে। দিলারা ভাবীর পরামর্শে সাজেদা ও মুসলিমা, রোকেয়া, তাসলিমা আপা মিলে পড়াশোনা শুরু করি। ভাবী বই-খাতা কিনে দেন। শুরু হয় পড়ালেখা। শিক্ষার্থী মুসলিমা জানান, তিনি বাড়িতে সালোয়ার-কামিজসহ ছিট কাপড়ের ব্যবসা করেন। আগে হিসাব-নিকাশ করা কষ্ট হতো। অন্যের সহযোগিতা নিতে হতো। এখন কারও সহযোগিতা লাগে না।

একই কথা জানান আরেক ছাত্রী তাসলিমা। দিলারার স্বামী ব্যাংক কর্মকর্তা আলামিন জানান, স্ত্রী কর্মস্থলের পর বাড়িতে সাংসারিক কাজ শেষ করেন। পাড়ার ভাবীরাও নিজ নিজ কাজ শেষে পড়তে আসেন এখানে। যারা আসেন তারা নিতান্তই গরিব। তাদের বই-খাতা- কলম কিনে দেওয়া হয়। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও সাংবাদিক রমজান আলী জানান, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে দিলারা আফরোজের উদ্যোগ অনুকরণীয়। তাকে সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর