শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩১

লাইট অফ করে মোয়াজ্জেম কোপ দেয় সানাউল্লাহ

ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় হত্যা

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

লাইট অফ করে মোয়াজ্জেম কোপ দেয় সানাউল্লাহ

কুমিল্লার চান্দিনায় মহাসড়কে নৈশপ্রহরীর ও দোকানদার ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ১০দিন পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নাছিরকে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় হত্যা করা হয়। হত্যার সময় দোকানের লাইট অফ করে আসামি মোয়াজ্জেম, বঁটি দিয়ে কোপ দেয় সানাউল্লাহ। চান্দিনার গ্রামের বাখরাবাদের মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫) এবং অটোরিকশাচালক নাওতলা গ্রামের সানাউল্লাহকে(২৪) আটকের পর তারা পুলিশকে এ তথ্য জানায়। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২২ জানুয়ারি চান্দিনা এলাকা থেকে  মোয়াজ্জেম নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। মোয়াজ্জেমের দেওয়া তথ্যমতে সানাউল্লাহকে আটক করা হয়। সূত্রে জানা যায়- সানাউল্লাহ গত ৭ জানুয়ারি রাতে ১৫ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করে। সানাউল্লাহ গত ১২ জানুয়ারি বিকালে নাছির উদ্দিনের দোকানে আসলে কেন প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ করল, ধর্ষণ করে কিভাবে এলাকায় ঘুরছে এমন প্রশ্ন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সানাউল্লাহ। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সানাউল্লাহ রাতে মোয়াজ্জেম নামে অপর একজন অটোরিকশা চালককে সঙ্গে নিয়ে প্রতিশোধ নিতে আসে। নাছিরের দোকানের লাইট নেভায় মোয়াজ্জেম। বঁটি দা দিয়ে নাছিরকে কোপ দেয় সানাউল্লাহ। নাছির জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পাশের মহাসড়ক পারাপারের সময় গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। সারা রাত গাড়ির চাকার সঙ্গে নাছিরের মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। প্রসঙ্গত, ১২ জানুয়ারি রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নাওতলা আলিম মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি মার্কেটে নৈশপ্রহরীর কাজ করত নাওতলা গ্রামের রবিউল্লাহ। ওই মার্কেটে চা দোকানের ব্যবসা করত রবিউল্লাহর ছেলে নাছির উদ্দিন। রবিবার রাতে বাবার বদলে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে ছেলে নাছির উদ্দিন।

গত ১৩ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা থেকে নাছির উদ্দিনের ছিন্ন-ভিন্ন মরদেহের অংশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। নিহতের বাবা রবিউল্লাহ দাবি করেন তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।

প্রমাণ হিসেবে তিনি দোকানে রক্তের চিহ্ন দেখান পুলিশকে।


আপনার মন্তব্য