শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০২০ ২৩:৩৫

ছড়িয়ে পড়েছে কারখানার বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ছড়িয়ে পড়েছে কারখানার বর্জ্য, হুমকিতে পরিবেশ
টিউবওয়েল থেকে বের হয় ময়লাযুক্ত পানি (বাঁয়ে), ছড়িয়ে পড়া বর্জ্য -বাংলাদেশ প্রতিদিন

পঞ্চগড়ে একটি স্পিরিট উৎপাদন কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায়। বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপ থেকে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মিশে যাচ্ছে টিউবওয়েলের লেয়ারে। টিউবওয়েলের পানিতেও পাওয়া যাচ্ছে দুর্গন্ধ। অন্যদিকে পাইপ ফেটে বর্জ্যরে পানি উন্মুক্তভাবে প্রবাহিত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। বর্জ্য নদীতে যাওয়ায় মারা যাচ্ছে মাছ ও জলজ উদ্ভিদও। স্থানীয়দের দাবি প্রতিকারের জন্য কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার দেখা করেও লাভ হয়নি। ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানা যায়, পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার ধাক্কামাড়ায় ৮০ দশকে গড়ে উঠে ওই স্পিরিট কারখানা। এই কারখানায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ক্যামিকেল দ্রব্য উৎপন্ন হয়। কারখানা নির্মাণের সময় বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য মাটির নিচে প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ পাইপ নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে ওই পাইপ দিয়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন থেকে নিষ্কাশনের পাইপ সংস্কার না করায় কারখানার বর্জ্য মিশ্রিত পানি টিউবওয়েলের পানির লেয়ারে মিশে যাচ্ছে। এতে টিউবওয়েল থেকে বের হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত পানি। এই পানি খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে বর্জ্যরে পানি সরাসরি করোতোয়া নদীতে ফেলায় মাছসহ জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী মরে যাচ্ছে। ইসলামপুর, ধাক্কামাড়া, এবং মিলগেট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে রাতে তারা ঘুমাতেও পারেন না। ইসলামপুর এলাকার আলেয়া বেগম জানান, তার বাড়ির পাশ দিয়ে বর্জ্য নদীতে পড়ছে। পাইপ ফেটে ছড়িয়ে পড়া ময়লা পানি খেয়ে হাঁস-মুরগি মারা যাচ্ছে। টিউবওয়েলের পানিতে স্পিরিটের গন্ধ পাওয়া যায়। পঞ্চগড় পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশরাফুল ইসলাম জানান, এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, ক্যামিকেলজাতীয় কারখানা থেকে নির্গত যে কোনো দুর্গন্ধই স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক বলেন- স্পিরিট কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পানি পরিবেশের ক্ষতি করে না। কারণ এটা গুড় থেকে তৈরি হয়। আমরা যথাযথ আইন মেনে স্পিরিট উৎপাদন করছি। অতি শিগগিরই শোধনাগার নির্মাণ করা হবে। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাইনি। কারখানা বর্জ্যরে প্রভাবে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে- প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর