শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:০৮

শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

Google News

বরগুনার আমতলী উপজেলার এক মাদ্রাসায় দুই শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পূর্ব পাতাকাটা মেহের আলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে দুই শিক্ষক নিয়োগ, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মাদ্রাসার চার শিক্ষক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। গতকাল ওই মাদ্রাসার চার শিক্ষক আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এমন অভিযোগ করেন। শিক্ষকরা সুপারের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, উপজেলার পূর্বপাতাকাটা মেহের আলী দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষক কর্মচারী ছিল। ২০১৪ সালে ওই মাদ্রাসায় দুই সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হয়। ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর সরকার স্থানীয় কমিটির নিয়োগ বন্ধ করে দিয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দেন। সুপার মাওলানা মো. আবদুল হাই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) ওই দুই শূন্য পদের চাহিদা না দিয়ে গোপন রাখেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন। পরে ২০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে বনি আমিন ও সুলতানা হামিদা নামক দুই শিক্ষক নিয়োগ দেন। দুই শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষকরা অবগত নন। বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ অবৈধ নিয়োগ দেন তিনি এমন অভিযোগ মাদ্রাসা শিক্ষকদের। গত চার বছর ধওে সৃুপার এ দুই শিক্ষকের নিয়োগ গোপন রাখেন।

 সুপার দুই শিক্ষককে কাগজে কলমে মাদ্রাসায় ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর যোগদান দেখালেও বাস্তবে তারা মাদ্রাসায়  ক্লাস করেননি এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ওই দুই শিক্ষকের নামের অনুকূলে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর বেতন ভাতা প্রদান করেন। জানুয়ারি মাসের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সিটে ওই দুই শিক্ষকের বেতন ভাতা আসলে শিক্ষকদের মাঝে হইচই পড়ে যায়। সুপার তার ক্ষমতা বলে ওই দুই শিক্ষকের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেন। এবং বেতন ভাতা দিয়ে দেন। মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা মো. আবদুর রব অভিযোগ করেন, সুপার মাওলানা মো. আবদুল হাই ২০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে জাল জালিয়াতি করে অবৈধ নিয়োগ বোর্ড গঠন করে দুই শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে সরকার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকেন কিন্তু সুপার সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে জাল স্বাক্ষর দিয়ে এ দুই  শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ নিয়োগের বিষয়ে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা অবগত নয়। এ ছাড়াও সুপার মাদ্রাসার নামে ভুয়া ছাত্রী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন, ফরম ফিলাপ, টিউশন ফি ও রিজার্ভ ফান্ডের নামে ঋণ নিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা শিক্ষা অধিদফতর, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার পাইনি এমন অভিযোগ শিক্ষকদের। অভিযোগ রয়েছে মাওলানা মো. আবদুল হাই ১৯৮৭ সালে মাদ্রাসায় সুপার হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই মাদ্রাসাটিকে দুর্নীতির আখরায় পরিণত করেছেন। বরগুনা জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর