শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫১

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে কক্ষে ঝুলছে তালা। এ ছাড়া নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এ হাসপাতালে। এক বেডে তিন রোগী আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নাভিশ্বাস উঠেছে রোগী ও স্বজনদের।  সরেজমিন গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারে হাসপাতালের কোনো লোক নেই। কর্তব্যরত অনেক চিকিৎসকের কক্ষেও তালা ঝুলছে। অথচ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার বিধান রয়েছে। এদিন দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর দেখা মেলে। এদের কেউ কেউ বলছেন, চিকিৎসকসহ কর্মচারীর ঠিকমতো দেখা মেলে না হাসপাতালে। টাকা ছাড়া কাজও হয় না। ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় বেডেই তিনজন করে রোগী। একাধিক স্বজন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকার কথা সেখানে ঝুঁকি নিয়ে এক বেডে তিনজন করে শিশু রাখতে হচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুরা সুস্থ হওয়ার চাইতে অসুস্থই বেশি হচ্ছে বলে জানান তারা। আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে কক্ষ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি অকেজো হওয়ার পথে। সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, নির্দিষ্ট সময়ে কেউ ডিউটিতে না থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল দিয়ে সেবা পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে সদর হাসপাতাল ৫০ শয্যায় আর ২০০৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নিত হয়।

 ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও হাসপাতালে জনবল বাড়েনি এখনো। ৫০ শয্যার জনবলেও রয়েছে সংকট। সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফ্ফার জানান, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন আউট ডোরে ৪০০-৫০০ রোগী সেবা নেন। ইনডোরে ২৫০-৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন। এতো রোগী নিয়ে নার্স ও চিকিৎসকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তবুও শিগগিরই আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন চালুসহ স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বাড়ানোর ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য