শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২১ ২৩:১৩

সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

আবদুস সামাদ সায়েম, সিরাজগঞ্জ

সড়ক সংস্কারে অনিয়ম

সিরাজগঞ্জে সড়ক সংস্কারের নামে চলছে অনিয়ম। নিম্নমানের কাজ করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ফলে কাজ শেষ হওয়ার মাস, বছর না যেতেই সড়কের পিচ-পাথর ওঠে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। খানাখন্দের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। জানা যায়, গত বছর সড়ক ও জনপথের (সওজ) আওতায় পাবনা-বগুড়া মহাসড়কের উল্লাপাড়া থেকে যুগ্মদহ ব্রিজ পর্যন্ত সংস্কার কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলম কনস্ট্রাকশন। কাজ শেষ হয় প্রায় ছয় মাস আগে। এরই মধ্যে অধিকাংশ জায়গায় পাথর ও পিচ ওঠে বড় বড় গর্ত হয়েছে। একই মহাসড়কের যুগ্মদহ ব্রিজ থেকে বিন্নাদইর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সংস্কার করে তুর্না এন্ট্রারপ্রাইজ। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি টাকা। কাজ শেষ হয় মাসখানেক আগে। এই অংশে পিচ-পাথর ওঠে গেছে। অভিযোগ আছে, সওজের কতিপয় কর্মকর্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের কাজ করে কোটি কোটি টাকা লোপাট করছেন। মানসম্মত কাজ না হওয়ায় কিছুদিন যেতে না যেতেই নষ্ট হচ্ছে সড়ক। যানবাহন চালকরা গর্ত থেকে চাকা বাঁচাতে গাড়ি টার্ন নেওয়ার সময় এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। মশিপুর গ্রামের লোকমান, মোহাম্মদ আলী, পাড়কোলার জাকারিয়া, সুলতান মাহমুদ ও রবিন জানান, মাত্র এক মাস আগে সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। সপ্তাহ না যেতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর ওঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারে সরকার ঠিকই অর্থ দিচ্ছে কিন্তু সওজ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন মিলেমিশে নিম্নমানের কাজ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এর ঘেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শাহজাদপুর পৌর মেয়র মনির আক্তার খান তরু লোদী বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করায় কিছুদিন পরই সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, পাবনা-বগুড়া মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এ জন্য খানাখন্দ অনেকটা দায়ী। দুর্ঘটনা রোধে ঈদের আগে মহাসড়ক সংস্কারের জন্য সওজ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উল্লাপাড়া সওজ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল খালেক বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরাতন পিচ-পাথরের আস্তরণ রেখেই ওপর দিয়ে কাজ করা হয়েছে। নিচের ওই আস্তরণ খারাপ হওয়ায় হয়তো নতুন আস্তরণ ধরে রাখতে পারছে না। ফলে কিছু স্থানে পিচ-পাথর ওঠে গেছে। সিরাজগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম নিম্নমানের কাজের কথা অস্বীকার করে বলেন, কি কারণে পিচ-পাথর ওঠে গেছে তা বলা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মন্তব্য