শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ মে, ২০২১ ২৩:২৩

খামারিদের প্রণোদনার টাকা লোপাট

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

মাদারীপুরে করোনাকালে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারের দেওয়া প্রণোদনার লাখ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রান্তিক খামারিরা প্রণোদনার অর্থ না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার বলারকান্দি গ্রামে আক্তারুজ্জামান ও নাজমা সম্পতি ২০ বছর ধরে বাড়িতে খামার করে গবাদিপশু পালন করছেন। ব্যাংক ঋণ নিয়ে ১২টি গরু পালনে প্রচুর অর্থ খরচ করলেও কমে গেছে আয়ের উৎস। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ এলেও করোনা দুর্যোগে সরকারি কোনো সহায়তা পাননি তারা। এই খামারি দম্পতি জানান, করোনাকালে আয়-রোজগার কম। গবাদিপশুর পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেলে আমাদের খুব উপকারে আসত। খামারি মোশারফ ব্যাপারী বলেন, সরকার যে আমাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, সেটি আমরা জানিও না। কেউ বলেনি কীভাবে এ টাকা পাওয়া যাবে। জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, এরকম হওয়ার কথা নয়। শিগগিরই এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও সংশ্লিষ্টদের থেকে জানা যায়, করোনাকালে জেলা সদর, শিবচর, কালকিনি ও রাজৈর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। ডেইরি, পোলট্রি ও ডাক এই তিন ক্যাটাগরিতে ৭ হাজার ১২৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত খামারির প্রত্যেককে ৩ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার কথা। প্রণোদনার এ অর্থ পাননি এ প্রান্তিক খামারিরা। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত খামারিদের বাদ দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের পছন্দের কয়েকজনকে কিছু টাকা দিয়ে বাকিটা লোপাট করা হয়েছে। মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্র্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, তারা নিয়মানুযায়ী তালিকা তৈরি করে খামারিদের টাকা দিয়েছেন। প্রণোদনার টাকার বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এই বিভাগের আরও খবর