শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মে, ২০২১ ২৩:০৮

দ্বন্দ্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লা প্রতিনিধি

Google News

কুমিল্লার চান্দিনায় বেদে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বন্দ্বে দেশের লাইফলাইন খ্যাত ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বেদে সম্প্রদায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা বেদেপল্লী এলাকায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে তারা। প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধের পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে। ইফতারের আগ মুহূর্তের অবরোধে চট্টগ্রামমুখী লেনে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এর আগে বেদেপল্লীতে হাড়িখোলা এলাকার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বেদেদের মারামারির ঘটনা ঘটে।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করে বেদে সম্প্রদায়ের অন্তত ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ।  আহতরা হলেন- হাড়িখোলা এলাকার মতিন মিয়ার ছেলে মঈন উদ্দিন (২২), সহিদুল ইসলামের ছেলে আরিফ (১৮), মজিদ মিয়ার ছেলে আনিছ (২৭), মোসলেম মিয়ার মেয়ে ফাতেমা (২৫)। এ ছাড়া বেদে সম্প্রদায়ের আরও ছয়জন আহত হয়। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাড়িখোলা এলাকার সড়ক ও জনপথের খাস জায়গায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে অবস্থান নেয় বেদে সম্প্রদায়।

এরই মধ্যে হাড়িখোলা ও পার্শ্ববর্তী থানগাঁও এলাকায় জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন তারা। বেদেদের বাড়িঘর থাকলেও তাদের ব্যবহৃত পানি স্থানীয়দের ফসলি জমিতে নিষ্কাশন করায় বাধা দেন স্থানীয়রা। এতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হাড়িখোলা বেদেপল্লীর সর্দার রুহুল আমিন জানান, আমাদের বেদেরা অনেক কষ্টে উপার্জন করে ফসলি মাঠের মাঝে জমি কিনে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করছে। জমির আইল দিয়ে যাতায়াত করে আসছে তারা। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদের উসকানিতে স্থানীয়রা যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেয়।  চারদিন ধরে আমরা স্থানীয়দের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলার কেরনখাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হারুন-অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, দুই পক্ষের ঘটনায় সালিশ দরবারের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য বেদে সর্দারকে ডেকেছিলাম। তিনি গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর আলোচনা করে বিষয়টি জানানোর কথা বলে বিকালে মহাসড়ক অবরোধ করে। চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ শামসউদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, আমরা অভিযোগ পেয়ে সার্কেল স্যারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছিলাম। এরই মধ্যে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছে। আমরা দ্রুত এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। মারামারির ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর