শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

সারের ঘাটতি, ফলন নিয়ে শঙ্কা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের আবাদি কৃষি জমিতে জৈব সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে জেলায় খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। এমন আশঙ্কা রয়েছে খোদ কৃষি বিভাগেরও। কৃষি বিভাগ কৃষকদের জমিতে জৈব সার ব্যবহার করার জন্য সচেতনতামূলক প্রচার, মাঠ দিবস, চাষি সমাবেশ, উঠান বৈঠক, প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করছেন। জেলার কৃষি জমিতে যেখানে জৈব সারের পরিমাণ শতকরা ৫ ভাগ প্রয়োজন, সেখানে জৈব সারের উপাদান রয়েছে ১ ভাগেরও কম। জৈব সারের উপাদান পূরণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদন কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, জমিতে গোবর সার, মাশকলাই জমিতে ছিটিয়ে তার গাছ একটু বড় হলে হাল চাষ করে মাশকলাইয়ের গাছ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে তা পচাতে হবে। এ ছাড়াও কচুরিপানা পচিয়ে জমিতে ব্যবহার করলে জৈব সারের চাহিতা পূরণ হবে। যে সব জমিতে গভীর নলকূপ ও অগভীর নলকূপের সাহায্যে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ ফলনশীল ধান ও অন্যান্য ফসলের চাষ করা হচ্ছে। সে জমির উর্বরতা শক্তি  জৈব সারের অভাবে উপাদান কম পাচ্ছে। এ ছাড়াও জমিতে একই ধরনের ফসলের চাষ করা, জৈব সার ব্যবহার না করা এবং রাসায়নিক সার সুষমহারে প্রয়োগ না করে, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে দিন দিন মাটির  উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। ফলে কৃষি জমিগুলো ভবিষ্যতে উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটা হারিয়ে ফেলবে। এ ছাড়া জেলার আলু চাষের জমিতে বিভিন্ন ছত্রাক রোগ দেখা দেয়।

এ জন্য আলুর গাছ রক্ষায় আলু চাষিরা জমিতে ব্যাপকহারে কীটনাশক ব্যবহার করে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কম পাচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রের তথ্য মতে জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৮১ হাজার ২৫০ হেক্টর।  তিন ফসলি কৃষি জমি রয়েছে ৫৮ হাজার ৩২০ হেক্টর। দুই ফসলি জমির পরিমাণ ১৯ হাজার ৭৮১ হেক্টর। আর এক ফসলি জমি রয়েছে ১ হাজার ৩০০ হেক্টর। এমন কিছু জমি রয়েছে তাতে তিনের অধিক ফসল ফলানো যায়। এ রকম জমির পরিমাণ ১ হাজার ৮৪৯ হেক্টর।  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক স, ম, মেফতাহুল বারি জানান, রাসায়নিক সার ব্যবহার করে কৃষকরা বেশি ফলন পাওয়ার জন্য। খুব কম সংখ্যক কৃষকই জৈব সার ব্যবহার করে। জেলা কৃষি বিভাগ জৈব সার ব্যবহারের জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করা কাজ অব্যাহত রেখেছে। সদর উপজেলার পালী গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, আগে তো গরু মহিষের হাল ছিল। এখন কলের লাঙল। গরু মহিষের হাল না থাকায় বাড়িতে আর গোবর সার হয় না। ফলে গোবর সারের ব্যবহার কমেছে। জৈব সারও কম কৃষকই ব্যবহার করে।