বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

সুদিন ফেরার স্বপ্ন পাটচাষিদের

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী

সুদিন ফেরার স্বপ্ন পাটচাষিদের

দেশের ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। সময়ের বিবর্তনে পাটের কদর কমেছে অনেক। পাটের সেই সোনালি অতীত কেবলই ইতিহাস। এদেশের বড় বড় পাটকল বন্ধের খবর পৌঁছে গেছে রাজবাড়ীর কৃষকের কাছে। তবুও সুদিন ফেরার স্বপ্নে রাজবাড়ীতে গত বছরের চেয়ে বেশি পাটের আবাদ করেছে এ জেলার কৃষকেরা। আশা-নিরাশার দোলাচলে প্রতিবছর লাভ-ক্ষতির হিসেব না করেই পাটচাষ করেন জেলায় কয়েক লাখ কৃষক। তবে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে পাটচাষ করে বেশ বিপাকের মধ্যে রয়েছেন এ জেলার কৃষকরা। শুরুর থেকে উৎপাদন খরচ বেশি ও পাটগাছ থেকে আঁশ এড়ানোর শ্রমিক সংকটের মধ্যে কাক্সিক্ষত দাম পাওয়াতে হতাশ কৃষকরা। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৫ উপজেলায় এ বছর ৪৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলার সদর উপজেলায় ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর, পাংশায় ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর, কালুখালীতে ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, বালিয়াকান্দিতে ১২ হাজার ৫৫০ হেক্টর, গোয়ালন্দতে ৪ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়। গত বছর এ জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে মাঠে দেখা যায়, কৃষকদের আবাদকৃত জমির বেশিরভাগ জমির পাট কাটা শেষের দিকে। পাট কেটে খাল-বিল-নদীর পানিতে পাট জাগ (পচাতে) ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতির প্রচলন না হওয়ার কারণে একমাত্র ভরসা পানিতে পাট  পচিয়ে সেখান থেকে আঁশ বিছিন্ন করা। জেলার প্রায় ৫০শতাংশ পাট শুকিয়ে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। তবে গত কয়েক দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে পাট শুকানো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া বলেন, আমরা লাভ-ক্ষতির হিসাব করি শুধুমাত্র দামের সময়। তবে এ বছর পাটের আবাদের সময় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। সে কারণে বেশ কয়েক বার সেচ দিতে হয়েছে। যে কারণে প্রথমদিকে খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে পাট কাটার সময় শ্রমিক সংকট রয়েছে। বেশি দাম দিয়ে শ্রমিক ক্রয় করাতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সেই তুলনায় বাজার মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। সদর উপজেলা মূলঘর ইউনিয়নের কৃষক মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের এদিকে ২২ শতাংশ জমিতে হিসেব করা হয়।