বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০২২ ০০:০০ টা

কাজে আসছে না ধরলা সেতু

রেজাউল করিম মানিক, লালমনিরহাট

কাজে আসছে না ধরলা সেতু

কাজে আসছে না ধরলা সেতু। এ সেতুটি বিগত ২০১৮ সালে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ধরলা নদীর ওপর নির্মাণের পরও কুড়িগ্রাম জেলার তিনটি এবং লালমনিরহাটের একটি উপজেলায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি। লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী সড়কে ধরলা নদীর ওপর নবনির্মিত ধরলা সেতুর প্রবেশপথ লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর সরু বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রশস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন চলতে না পারার কারণেই এমনটি হচ্ছে। যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বেইলি সেতুটি। ঘটতে পারে বড় ধরনের ঘটনা। এত বৃহৎ সেতু নির্মাণ হওয়ার পরও চার উপজেলার প্রায় ১২ লক্ষাধিক মানুষ এটির তেমন সুফল পাচ্ছে না। কাক্সিক্ষত কাজে না আসায় হতাশ এসব মানুষ। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা জানান, সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপুর্ণ ও অপ্রশস্ত হওয়ার কারণে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা এবং সদর উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাে  তেমন গতি পাচ্ছে না। এ বেইলি সেতুটির কারণে ব্যবসায়ীরা নবনির্মিত ধরলা সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপুর্ণ ও অপ্রশস্ত হওয়ায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী সহিদার রহমান বলেন, রত্নাই নদীর ওপর ঝুঁকিপুর্ণ ও অপ্রশস্ত বেইলি ব্রিজটির ওপর দিয়ে বড় আকারের পণ্যবাহী যান চলাচলে করতে না পারায় তারা নবনির্মিত শেখ হাসিনা ধরলা সেতুর সুবিধা নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘এ বেইলি ব্রিজটি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নবনির্মিত ধরলা সেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, বললেন তিনি। লালমনিরহাটের ব্যবসায়ী মোক্তারুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হলে ২০৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ধরলা সেতুটিকে তার পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য রত্নাই নদীর ওপরের বেইলি ব্রিজটিকে যত দ্রুত সম্ভব একটি শক্তিশালী ও প্রশস্ত সেতু দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে।’ একই কথা জানিয়ে লালমনিরহাটের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শেখ আবদুল হামিদ বাবু  হতাশাজনকভাবে বলেন, রত্নাইয়ের ওপর একটি নতুন সেতুর জন্য তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিনি বলেন, যদি রত্নাই নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর জায়গায় একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়, তাহলে তাতে আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করবে এটা আমাদের দাবি,’ তিনি বলেন। লালমনিরহাটে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার বলেন, রত্না নদীর ওপর অরক্ষিত ও অপ্রশস্ত বেইলি ব্রিজের স্থানে ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৮.৪৪ মিটার দীর্ঘ ও ১০.২৫ মিটার চওড়া একটি মজবুত ও প্রশস্ত সেতু নির্মাণের জন্য শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর