Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:১৭

নাটোরে ছাত্রীসহ অভিভাবক মহলে 'যৌন হয়রানি' আতঙ্ক!

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে ছাত্রীসহ অভিভাবক মহলে 'যৌন হয়রানি' আতঙ্ক!
প্রতীকী ছবি

নাটোরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ‘যৌন হয়রানি’ আতঙ্ক। একের পর এক শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা অস্বস্তিতে ফেলেছে ছাত্রী ও অভিভাবকদের। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমে যাচ্ছে ছাত্রীদের উপস্থিতি। 

অভিযুক্ত শিক্ষকদের বাঁচানোর জন্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রধানের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে সম্মানের স্বার্থে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় না নিলে অভিযুক্ত শিক্ষকরা শাস্তি ছাড়াই পার পেয়ে যাবেন বলে এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজির মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের মতো আলোচিত ঘটনার পর নাটোরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন নিপিড়ন বা যৌন হয়রানির একাধিক ঘটনা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নাটোর জেলার দুটি কলেজ ও দুটি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। স্কুলের দুই শিক্ষককে কর্তৃপক্ষ বহিস্কার করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেই দায় এড়িয়েছেন।

চলতি মাসের ১২ দিনে নাটোর সদর, সিংড়া ও বাগাতিপাড়ার দুইটি কলেজ ও দুইটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রী যৌন হয়রানির ৪টি ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ, সিংড়া উপজেলার বিয়াম উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগাতিপাড়া উপজেলার গফুরাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।

চলতি মাসের ১১ই এপ্রিল নাটোর প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি দেয়। চিঠিতে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রীরা ওই বিভাগের প্রধান কাজী ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে সহপাঠীকে যৌন হয়রানির ও শরিফুল ইসলাম নামে এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ আনে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আর মুখ খুলছে না।

একই দিন সিংড়া বিয়াম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রী ওই স্কুলের গণিতের শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে রাতে ফোন করে কুপ্রস্তাব দেয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মেলায় শিক্ষক ফজলুর রহমানকে বহিষ্কার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের প্রভাষক স্বামী আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে এক কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ করে তার স্ত্রী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ছাত্রী ধর্ষণের সত্যতা পেলেও কলজের অধ্যক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন অধ্যক্ষ। 

সর্বশেষ গত ২০শে এপ্রিল বাগাতিপাড়া উপজেলার গফুরাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতর একা পেয়ে ৬ষ্ট শ্রণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে শিক্ষক আবুল কালাম। ওইদিন রাতে ছাত্রীর পরিবারের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষক কালামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এসব যৌন হয়রানীর ঘটনার মধ্যে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারী কলেজে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হলেও প্রতিবেদন দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সিংড়া বিয়াম উচ্চ বিদ্যালয়েরঅভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার গফুরাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হয়েছে।

যৌন হয়রানির এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিভাবক, সুধীজন, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ। দু-একজন লোলুপ শিক্ষকের কারণে পুরো শিক্ষক সমাজের বদনাম রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নৈতিক চর্চা বাড়ানোর তাগিদ তাদের।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর


আপনার মন্তব্য