Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ জুন, ২০১৯ ০০:৪৭
আপডেট : ১৯ জুন, ২০১৯ ০৮:২৫

গৃহবধূ জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা; স্বামী-শ্বাশুড়িসহ গ্রেফতার ৪

নরসিংদী প্রতিনিধি

গৃহবধূ জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যা; স্বামী-শ্বাশুড়িসহ গ্রেফতার ৪
জান্নাতি আক্তার

মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় নরসিংদীর হাজিপুরে দশম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী ও গৃহবধূ জান্নাতিকে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শান্তি বেগম ওরফে ফেন্সী রানী ও তার ছেলে শিপলু মিয়াসহ ৪ জনকে নাটোর থেকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী পুলিশ। 

মঙ্গলবার রাতে নাটোরের পুকুরপার এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতরা হলেন নিহত জান্নাতির শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম (৪৫), ছেলে শিপলু ওরফে শিবু (২৩), মেয়ে ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। সকলেই চর হাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সুপার স্যারের নিদের্শনা মোতাবেক অত্যন্ত গুরত্ব সহকারে মামলার তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীরা খুবই চতুর। এক স্থানে বেশিক্ষণ অবস্থান করেনি। তাই তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তারপরও আমার সফল হয়েছি। বুধবার পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন (বিপিএম) স্যার সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

জানা যায়, প্রায় এক বছর  আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তারের সাথে পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রূপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে মাদক ব্যবসায়ী শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু তাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে রাজি হয়নি জান্নাতি। ফলে জান্নাতির উপর নেমে আসে কঠোর নির্যাতন। 

যৌতুকের টাকা না দেওয়াসহ মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়া চলতি বছরের গত ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ও শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম ও তার মেয়ে ফাল্গুনী বেগম ও স্বামী শিপলু  জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে  ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার পর ২৫ এপ্রিল নিহতের দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান আদালতে মামলা দায়ের করেন। 

আদালত পুলিশ ব্যুরো-অব-ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে ৭ দিনের মধ্যে তর্দন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু পৌনে দুই মাসেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি পিবিআই। এরই মধ্যে দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে  ঢামেক'র বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

সর্বশেষ গত শনিবার রাতে জান্নাতিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত না হওয়ায় পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে শ্বাশুড়ি শান্তি বেগম, স্বামী শিপলু ওরফে শিবু ,ফাল্গুনী বেগম ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়াকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা শরীফুল ইসলাম খান। এরপরই গ্রেফতার অভিযানে নামে সদর থানা পুলিশ। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে নাটোর থেকে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিডি-প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য