Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:৫৮

লালমনিরহাটের ৬৩ চরাঞ্চলে ঈদ শুধুই স্বপ্ন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের ৬৩ চরাঞ্চলে ঈদ শুধুই স্বপ্ন

চারদিকে ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঈদের আনন্দ এ বছরও ফিকে হয়ে গেছে লালমনিহাটের তিস্তা ধরলা বিধৌত ৬৩টি চরের অসহায় মানুষের ভাগ্যে। নদীর মাঝখানে জেগে উঠা এসব চরবাসীর কপালে ঈদের আগেও জোটেনি তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা। এমনকি ঈদের দিনেও অধিকাংশ চরবাসীর ভাগ্যে জোটেনি এক টুকরো মাংস।

দু’দফা বন্যা আর নদী ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ী হারিয়ে পরিবার গুলো এখন নিঃস্ব। ঈদ যেন তাদের কাছে শুধুই স্মৃতি। 

ঈদের দিন সোমবার চরগুলোতে সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, তিস্তা-ধরলায় এখন পানি না থাকরেও বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষগুলোর করুন দুরাবস্থা। হঠাৎ রবিবার রাত থেকে ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ে। তাই ভাঙ্গন কবলিত এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষই যেতে পারেনি মাঠে নামাজ পড়তে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা একেবারে নেই বলেই চলে। নদীর মিতালী খেলার কারণে ফিকে হয়ে গেছে তাদের ঈদ আনন্দ। ঈদের আনন্দের দিনে চরাঞ্চলের এসব মানুষের কেটেছে ভাঙ্গনের হাত থেকে বাড়ি রক্ষা আর বাধে বালুর বস্তা ফেলিয়ে। তাই ঈদের আনন্দ নেই নদী ভাঙন কবলিত এলাকা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। 

তাদের দিন কাটছে অনাহারে, অর্ধাহারে ও নানা কষ্টে। কোরবানির ঈদ হলেও চরের এসব মানুষের অধিকাংশই পাননি এক টুকরো মাংস। আক্ষেপ করে অনেকেই বলেন, এটাই তাদের জীবন। চরের এসব বাসিন্দা দুঃখ ভরা মন নিয়ে বলেন, আমাদের মতো গরিবদের আনন্দ বলতে কিছু নাই। চরের অসংখ্য মানুষ আবেগ-তাড়িত হয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ঈদ তাদের জন্য সব সময়ই স্বপ্নের মতো। 

নদী চরবেষ্টিত কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলী জানান, চরের অভাবী মানুষগুলোর ঈদ নেই বললেই চলে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তা দিয়ে তাদের ঈদ হতে পারে না। চরের অধিকাংশ মানুষই কোরবানির ঈদে মাংস পাননি বলেও জানান এই ইউপি চেয়ারম্যান।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য