শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:১৫

মাসিমপুরের শতবর্ষীয় বট-পাকুড় গাছগুলো যেন বাদুড়ের অভয়ারণ্য

দিনাজপুর প্রতিনিধি

মাসিমপুরের শতবর্ষীয় বট-পাকুড় গাছগুলো যেন বাদুড়ের অভয়ারণ্য

দিনাজপুর শহরে থেকে সিকদারহাট সড়কের লিচুখ্যাত মাসিমপুর কবরস্থানে শতবর্ষীয় কয়েকটি পুরনো গাছে হাজার হাজার বাদুড়ের বসবাস। যেন এটা তাদের বাসের অভয়ারন্য। গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায় সর্বত্র বাদুড়ের নিরাপদ আবাস। এখানে সকালে, বিকাল বা সন্ধ্যায় দেখা যাবে হাজার হাজার বাদুড়। এই চিত্র প্রতিদিনের। 

দিনের আলোতে গাছের আগায় তাকালে মনে হবে গাছের পাতাই নেই, আছে শুধু বাদুড় আর বাদুড়। বাদুড় দিনে চলাফেরা করতে পারে না। বাদুড় রাতের আঁধারে চলে। তাই খাবারের সন্ধানে সন্ধ্যা হলেই এসব বাদুড় চলে যায় বিভিন্ন দুর-দুরান্তের এলাকায়। কিন্তু সকাল হওয়ার আগেই এসব গাছে আবার ফিরে আসে এসব বাদুড়। দিনের বেলায় এই এলাকার গাছের ছায়ায় উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। 

দিনের বেলায় মানুষসহ পৃথিবীর অধিকাংশ প্রাণীই জেগে থাকে। দিবাচর প্রাণীদের কোলাহলে বাদুড়ের পথচলার সেই বিশেষ শব্দ তরঙ্গ হারিয়ে যায়। তাই কোটি কোটি শব্দ তরঙ্গের ভিড়ে নিজের শব্দ তরঙ্গটি খুঁজে খুঁজে পায় না বলেই বাদুড় দিনের বেলা বাসা ছেড়ে বের হয় না।
বাদুড়ের এই অভয়ারণ্য দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মাসিমপুর কবরস্থানের শতবর্ষীয় বট-পাকুড়সহ বিভিন্ন গাছগুলোতে। 

তবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তারে মাঝে মাঝে তাদের মরা বাদুড় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়, কারণ তারের প্রস্থ কম হওয়ায় তাৎক্ষনিক ভাবে তারা তারের সুস্পষ্ট ধারণা পায় না। বাদুড়ের বড় বড় দুটি চোখ থাকলেও সেগুলো দিয়ে তারা দেখতে পায় না। বাদুড়কে তাই দেখার কাজটা করতে হয় কান দিয়েই। 

আজব প্রাণীদের মধ্যে বাদুড় একটা। ডানা আছে আকাশে উড়তেও পারে, তবু সে পাখি নয়, স্তন্যপায়ী প্রাণী। মুখটা শিয়ালের মতো, খরগোশের মতো বড় বড় দুটো কান, ছাতার মতো অদ্ভুত দুটি পাখা। বাদুড় মূলত ফলভোজি। পেয়ারা, লিচু, জামরল ইত্যাদি ফলের ঠিকানা খুঁজে বের করতে তারা শব্দ তরঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে নাকের গন্ধ শক্তির ওপরও নির্ভর করে।

মাসিমপুরের কলেজ ছাত্র নাঈম ইসলামসহ অনেকেই জানান, এ এলাকায় এত বাদুড় এক স‌ঙ্গে বসব‌াস কর‌ছে অনেক বছর ধ‌রে। এলাকার মানুষ প্রকৃতির এই বাদুড়ের উপর বিরক্ত হয়না। বেশিরভাগ এরা দিনে শতবর্ষীয় গাছে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। রাতে তারা বের হয় খাবার সন্ধানে। মানুষও এদের ক্ষতির কারন নয়। এ কারণে নিরাপদ আবাস মনে করেই দিনে-রাতে বাদুড়ের বসবাস। 

স্থানীয় শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন কয়েকজন জানান, লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের মাসিমপুর কবরাস্থানের বড় বড় বট-পাকুড়সহ কয়েক গাছে এইসব বাদুড়ের বসবাস। রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচলে মানুষ এদের কোন বিরক্ত ক‌রেনা।‌ নিরাপ‌দে বসবাস ক‌রে। ওইসব গাছের নিচ দিয়ে চলাচলের সময় অনেকেই তাদের কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাবে। ওইখানে কয়েকটি গাছ শতবর্ষীয়। এদের থাকার শব্দই মাঝে মাঝে জানান দেই। এসব গাছে আমি ছোট থেকে ওইসব বাদুড়কে দেখে আসছি। 

 

বিডি-প্রতিদিন/ সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য