শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ মে, ২০২০ ১৫:০৩

খুলনার বিধ্বস্ত উপকূলে বিবর্ণ ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:

খুলনার বিধ্বস্ত উপকূলে বিবর্ণ ঈদ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান চলে গেলেও খুলনার উপকূলীয় এলাকায় রেখে গেছে ধংস চিত্র। বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে কেউ হারিয়েছেন বসতভিটা। লবন পানিতে কারো নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি, মাছের ঘের। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সব হারানো এসব মানুষের কাছে এখন বেঁচে থাকাটাই যেন ঈদ আনন্দের মতো। 

জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, বুলবুলের সাথে যুদ্ধ করেই জীবন কাটে উপকূলীয় এলাকার মানুষের। সর্বশেষ গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাউবো বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ভেসে যায় ফসলি জমি, অসংখ্য মাছের ঘের। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮৩ হাজার কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গাছপালা উপড়ে পড়েছে।

কয়রার দক্ষিণ বেতকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুর রহমান বলেন, ঘরে খাবার নেই, পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। খোলা আকাশের নীচে রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। এ অবস্থায় ঈদ আনন্দ বয়ে আনেনি এখানকার মানুষের জন্য। ঈদের দিনেও রান্নাবান্না হয়নি অনেকের বাড়িতে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলে আম, কলা, পান, পেপে, তরমুজ ও সবজিসহ ফসলের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমির। শুধুমাত্র সবজিতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫৬ কোটি টাকা।  

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-এ্যাওসেড’র নির্বাহি পরিচালক শামীম আরফিন বলেন, লবণ পানির প্রভাবসহ বহুমুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার ফসলহানির কারণে পাল্টে যাচ্ছে এখানকার কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি। একই সাথে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন এখানকার কৃষি নির্ভর সাধারণ মানুষ।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর