শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ জুন, ২০২০ ২১:১১

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ মানুষ

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি দেড় লাখ মানুষ

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনাসহ শাখা নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সোমবার বিকেলে বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৬ উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ। অপরদিকে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

যমুনা, ব্রহ্মপুত্রসহ শাখা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর, দুরমুঠ, নাংলা, কুলিয়া, ফুলকোচা, ঝাউগড়া এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী, জোড়খালি, চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। সবমিলিয়ে ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ  ও সরিষাবাড়ী উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের ১১৬টি গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি উঠে পড়ায় বসতবাড়ি ছেড়ে দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন উচুঁ সড়ক ও আশ্রয় কেন্দ্রে। ইতিমধ্যে বন্যার পানি উঠে ইসলামপুর-উলিয়া-মাহমুদপুর সড়ক, ইসলামপুর-গুঠাইল সড়কসহ বেশকিছু আঞ্চলিক ও স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। 

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে ৫ হাজার ৫৯৩ হেক্টর পাটসহ ৬ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির ফসল। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: নায়েব আলী জানান, দুর্গত এলাকার জন্য এখন পর্যন্ত ৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে সোমবার সকালে মেলান্দহের দুরমুঠ ইউনিয়নের রুকনাই গ্রামের রেহান আলীর ছেলে মো. সনি(১২) বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তা পার হতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ভেসে যায়। বিকেলে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সনির লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও রবিবার সন্ধ্যায় মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বেলালের ছেলে সোহান(৭) বন্যার পানিতে ডুবে যায়। পরে রাতে স্থানীয়রা সোহানের লাশ উদ্ধার করে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর