শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৫৩

খাগড়াছড়িতে নারীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৭ জনকে আদালতে প্রেরণ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে নারীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৭ জনকে আদালতে প্রেরণ
প্রতীকী ছবি

খাগড়াছড়িতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার সাতজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-নুরুল আমিন, বেলাল হোসেন, ইকবাল হোসেন, আব্দুল হালিম, শাহিন মিয়া, মো. অন্তর ও আব্দুর রশিদ। তাদের সবার বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর, গুইমারা, রামগড় ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। 

মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বলেন, ৯ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল গণধর্ষণের পাশাপাশি ওই বাড়িতে লুটপাট চালায়। আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি লুটপাট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগের সাথে আসামিদের স্বীকারোক্তির মিল রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, গণধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অস্ত্র, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। কারাগারে বসে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। জামিনে বের হয়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতি করত। গত বুধবার রাতেও ডাকাতি করার জন্য তারা আগে থেকে পরিকল্পনা করে। 

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খাগড়াছড়ি সদরের সংগঠিত গণধর্ষণের পেছনে সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। ডাকাতি করতে ঢুকে প্রতিবন্ধী ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার হওয়া আসামিরা। 

এদিকে, পাহাড়ে ও সমতলে সংগঠিত সকল ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম এবং বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল। 

খাগড়াছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ জানান, রবিবার গ্রেফতার সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার সব কিছু স্বীকার করায় তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়নি। ধর্ষিত নারী খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার গভীর রাতে খাগড়াছড়ি শহরে এক পাহাড়ি পরিবারে ডাকাতি করতে ঢোকে একদল যুবক। এ সময় তারা মাকে বেঁধে রেখে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। 

এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে।
 
বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর