শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:১৪

বগুড়ায় ভারি বৃষ্টিপাতে ডুবলো ১১০৬ হেক্টর জমির ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় ভারি বৃষ্টিপাতে ডুবলো ১১০৬ হেক্টর জমির ফসল

পাহাড়ি ঢলের পাশাপাশি বগুড়ায় গত এক সপ্তাহজুড়ে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সকল নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নদী এলাকায় চাষকৃত ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন রবিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ১০৬ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। 

রবিবার দুপুরে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানানো হয়, কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নতুন করে যমুনা ও বাঙ্গালি নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী এলাকার আউশ, আমন, সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রবিবার বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমে সকাল ৬টায় ৯ সেমিন্টমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ চাষিরা জানান, বৃষ্টি ও নদীর পানিতে তাদের চাষকৃত আমন ধান শাকসবজি ও  চরাঞ্চলের কৃষকের আউশ, মরিচ রোপা আমন, বীজতলা, শাকসবজি ও গাইনজা ধানের আবাদ তলিয়ে গেছে। উপজেলার সারিয়াকান্দি পৌরসভার দক্ষিণ হিন্দুকান্দি, ছাগলধরা, ডোমকান্দি, নারচি নিজ বরুরবাড়ী, হাটশেরপুর ইউপির হাসনাপাড়া, শাহানবান্দা। এছাড়া চর এলাকার বোহাইল, কর্নিবাড়ী, কাজলা, চালুয়াবাড়ী, হাট শেরপুর ও সদর ইউনিয়নের নিচু এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

সোনাতলা উপজেলার বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙালী নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। শনিবার যমুনা নদীতে বিপদ সীমার ১১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। ফলে ওই উপজেলার প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। রবিবার যমুনা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ আহমেদ জানান, চলতি বছরের ৪ দফা বন্যায় কৃষকের সীমাহীন ক্ষতিসাধন হয়েছে। বন্যার পর সরকার কৃষকদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব প্রেরন করা হবে। এখন ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলছে।

বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের নাগর নদে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি হওয়ায় গুলিয়া, পারশন, পারঘাটা, সারাদিঘর এলাকায় মাঠের আমন ধান ডুবে যাচ্ছে। দিন দিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও গুলিয়া দূর্নার খালে বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের দিন কাটছে হতাশায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, নাগর নদে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তা বিপদসীমার কিছুটা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার পারঘাটা গ্রামের কৃষক হযরত আলী, মাফু মিয়া বলেন, শুধু আমরা নই, এই এলাকার অনেক কৃষকের স্বপ্ন আর আশা ডুবিয়ে দিয়েছে বন্যা। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জমির রোপা আমন ধান নিয়ে কৃষকরা এখন দিশাহারা।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষি অফিসার মো. আদনান বাবু বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলায় এবার ১৯ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮০ হেক্টর জমির ধান প্লাবিত হয়েছে। তবে নাগর নদে আর পানি বৃদ্ধি না পেলে রোপা আমন ধানের ক্ষতি হবে না।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক শাহাদুজ্জামান জানান, পানি বেড়ে জেলায় রোপা আমন ১০২৫ হেক্টর, মাশকালাই ৪৫, সবজি ৩২, মরিচ ৪ হেক্টর। সব মিলিয়ে ১১০৬ হেক্টর জমির ধান ও অন্যান্য ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা যাবে। এরমধ্যে জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর, শাজাহানপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার কিছু কিছু ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর