শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:৩৮

কালিয়াকৈরে বন্যায় সড়কের ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি:

কালিয়াকৈরে বন্যায় সড়কের ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি

চলতি বছরের বন্যায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা এলজিইডি বিভাগের প্রায় ৩০টি সড়ক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগের প্রায় ৬৫০ সড়ক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা। এসব বেহাল, ভাঙাচুরা ও বিচ্ছিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। তবে অতিদ্রুত ভেঙ্গে যাওয়া সড়কগুলো সংস্কারের দাবি তাদের।

উপজেলা এলজিইডি অফিস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের বন্যায় কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৮৮টি গ্রাম বন্যার কবলে পড়ে। এতে  থমকে গেছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী বন্যায় তাদের আওতাধীন সফিপুর-বড়ইবাড়ী, সফিপুর-লস্করচালা, মৌচাক-ফুলবাড়ীয়া, ফুলবাড়িয়া-রামচন্দ্রপুর, কালিয়াকৈর-কুড়িপাড়া, ফুলবাড়িয়া-পাবুড়িয়াচালা, চাবাগান-বোয়ালী, বোর্ডঘর-চান্দাবহ, বলিয়াদি-চান্দাবহ, বাড়ইপাড়া-জালশুকা,  ডুবাইল-ধানতারা, চন্দ্রা-চান্দাবহসহ ৩০টি সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যা প্রায় ১৩৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

অপর দিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতাধীন গ্রামীণ সড়ক। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী বন্যায় তাদের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার প্রায় সাড়ে ৬৫০ সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। যা প্রায় ৫১৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১৬ কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছেন এগুলো মেরামতে,  দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একরম ভেঙ্গে পড়েছে। এর মধ্যে এলজিইডি বিভাগের বেশির ভাগ সড়ক থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও বেহাল অবস্থা। কিছু কিছু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এর মধ্যে চাপাইর-সীমারপাড়সহ কয়েকটি সড়কের অল্প কিছু অংশ বন্যার স্রোতে আড়াআড়ি ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যার স্রোতে ধসে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সড়কের দুপাশ থেকে দু-দিকে যান চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন এখানকার মানুষ, তেমনি যাতায়াত খরচও হচ্ছে বেশি, ব্যয় হচ্ছে মূল্যবান সময়ও। 

অপরদিকে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের আওতাধীন সড়কগুলো এখনো রয়েছে পানির নিচে। এতে চড়ম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীসহ লাখ লাখ মানুষ। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহম্মেদ রেজা আল মামুন জানান, এ দপ্তরের আওতাধীন বেশির ভাগ গ্রামীণ রাস্তা এখনো পানির নিচেই রয়েছে। তবে এসব ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পানি কমে গেলেই খুব তাড়াতাড়ি মেরামত করা হবে। 

কালিয়াকৈর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী সরকার সাজ্জাত কবীর জানান, চলতি বছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হবে। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর