শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ২১:২২
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ২১:২৯

নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির অর্ধদিবস হরতাল ঘোষণা

নওগাঁ প্রতিনিধি :

নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির অর্ধদিবস হরতাল ঘোষণা

নওগাঁ-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) আনোয়ার হোসেন হেলাল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট। এই প্রথম নওগাঁ-৬ আসনে ইভিএমের মাধ্যমে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে টানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ৩৬.৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

অপরদিকে, ফলাফল ঘোষণার পর নওগাঁ জেলা বিএনপি ভোট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে তারা নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দেয়। এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি নাজমুল হক সনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু, সাবেক যুগ্ন-সম্পাদক শহিদুল ইসলাম টুকু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, নওগাঁ-৬ (রাণীনগর ও আত্রাই) আসনের উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি হলেও দুপুরের পর ছিল কম। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল ইসলাম। সকাল থেকে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি সকালে বেশি থাকলেও দুপুরের পর কম। দুপুর ১২টায় আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারদের কোনো সারি নেই। কিছুক্ষণ পরপর একজন-দুইজন করে ভোটার ভোট দিয়ে যাচ্ছেন। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৩৭৮জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৮০টি। যা মোট ভোটারের ১২ শতাংশের কিছু কম। ওই কেন্দ্রে ছয়টি বুথের কোনোটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের বাইরে আব্দুর কাদের নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন তিনি বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হক জানান, সকালে বিএনপির এজেন্টরা তালিকা দিয়ে ভোট কক্ষে বসেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা নিজেরাই চলে যান। তাদেরকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার কোনো অভিযোগ পাইনি। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। বিকেল ৩টায় আত্রাই উপজেলার আহসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৮টি বুথে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছেন ৬৫৮টি। ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৫৬জন। এই হিসেবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ভোট পড়েছে ১৯ শতাংশ। বিভিন্ন কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় আত্রাই উপজেলার সদরের নাহার গার্ডেন মার্কেটে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রহসনের নির্বাচন উল্লেখ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দুই-তিন দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর করে ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে আওয়ামী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। 

তিনি আরও বলেন, ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল। ৯টার সময় ভোট শুরুর পরপরই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা বিএনপির এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং কোনো দল করে না এমন অনেক সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। 

রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী ইন্তেখাব আলম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, ভোটের সুষ্ঠ পরিবেশের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্র এবং ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনছার বাহিনী মোতায়েন করা হয়। আর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর