শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৭
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৯
প্রিন্ট করুন printer

সমতলে ১ কোটি কেজির বেশী চা উৎপাদন, করোনাকালে রেকর্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সমতলে ১ কোটি কেজির বেশী চা উৎপাদন, করোনাকালে রেকর্ড

এবছর উত্তর বঙ্গের সমতল অঞ্চলে রেকর্ড পরিমান চা উৎপাদন হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে দেশের চা উৎপাদনে সর্বোচ্চ রেকর্ড অর্জন করেছে এ অঞ্চলের চা চাষিরা। 

জানা গেছে ২০২০ সালে উত্তর বঙ্গের ৫ টি জেলার বাগান এবং ক্ষুদ্র চাষিদের বাগান থেকে এসব চা উৎপাদন হয়েছে। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনির হাট, দিনাজপুর এবং নীলফামারী জেলার সমতল অঞ্চলে গত ১ দশক থেকে চা চাষ শুরু হয়েছে। এসব সমতল এলাকার ১০টি চা বাগান ও ৭ সহস্রাধিক ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান থেকে মোট ১ কোটি ৩ লক্ষ অর্থাৎ ১০.৩০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। এবছর জাতীয় ভাবে চা উৎপাদন হয়েছে ৮৬.৩৯ মিলিয়ন বা ৮ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার কেজি। অন্যান্য এলাকা থেকে উত্তরাঞ্চল রেকর্ড করে জাতীয় উৎপাদনে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ চা উৎপাদন যুক্ত করেছে।

২০২০ সালে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা বাগান  এবং ৭ হাজার ৩শ ১০টি ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে।  মোট ১০হাজার ১শ‘ ৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। উক্ত চা বাগানসমূহ থেকে ২০২০ সালে ৫,১২,৮৩,৩৮৬ কেজি সবুজ চা পাতা উত্তোলন করা হয়েছে। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে ১৮ টি চা কারখানায়  ১ কোটি ৩ লক্ষ কেজি চা উৎপন্ন হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে প্রায় ১ হাজার ৪শ ৯০ একর জমিতে নতুন চা আবাদ শুরু হয়েছে। প্রতিবছর চায়ের আবাদ বাড়ছে। ফলে প্রতিবছর চায়ের উৎপাদনও বাড়ছে। আজ এক প্রেস ব্রিফিংএ এসব তথ্য জানান পঞ্চগড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয়ের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন। 

তিনি জানান, সমতল ভূমিতে চা চাষের জন্য পঞ্চগড় ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। দিন দিন উত্তরাঞ্চলে চা চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, উত্তরাঞ্চলে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য চাষিদের বিভিন্ন সহায়তার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চাষিদের সল্পমূল্যে উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। চাষিদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ‘ক্যামেলিয়া খোলা আকাশ স্কুলে’ হাতে কলমে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান দিতে ইতিমধ্যে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে। এ আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি পেস্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে চা চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, চাষের নানান রোগবালাই ও পোকা দমনে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ বছর ক্ষুদ্র চাষিরা তাঁদের বাগানের উৎপাদিত কাঁচা পাতার ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তারা চা চাষে উৎসাহিত হয়েছে, চা বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের যত্ন নিয়েছে। এছাড়াও পাতার দাম ভাল পাওয়ায় নতুন নতুন চা আবাদিও বাড়ছে। এতে উত্তরাঞ্চলের জেলা সমূহের মানুষের যেমন একদিকে দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়েছে তেমনি প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য