শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:১৭
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:২৫
প্রিন্ট করুন printer

শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাবেক এমপি হাবিবসহ ৩৪ জনের জামিন বাতিল

মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা

শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার মামলায় সাবেক এমপি হাবিবসহ ৩৪ জনের জামিন বাতিল

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালিন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সাতক্ষীরা(তালা-কলারোয়া)-১ আসনের সাবেক এমপি সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৩৪ জনের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকালে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিন বাতিল হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কলারোয়ার দুইবারের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম, সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সাত্তার, সুপ্রিম কোর্টের এ্যাড. আব্দুস সামাদ, তিনজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন, রকিবুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমূহের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এ মামলায় অভিযুক্ত ৫০ জন আসামির একজন টাইগার খোকন অন্য মামলায় জেলহাজতে আটক রয়েছে। পলাতক রয়েছে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদের বাচ্চুসহ ১৫ জন। সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির তাদের জামিন বাতিল করেন।

এর আগে আজ ষষ্ঠ দিনের মত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর, সহকারী এটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা এবং সাতক্ষীরার পিপি এ্যাড. আব্দুল লতিফ। অপরদিকে আসামিপক্ষে অংশ নেন এ্যাড. শাহানারা আক্তার বকুল, এ্যাড. আব্দুল মজিদ, এ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, এ্যাড. আব্দুস সেলিম, এ্যাড. তোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষের এসএম মুনীর আদালতে ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি তুলে ধরে বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সকল আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সাক্ষীদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রাণে বেঁচে যাওয়া তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ওপর বারবার প্রাণনাশ চেষ্টায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। কলারোয়ার ঘটনা তারই অংশ বিশেষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে সব আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচার হলে সকল আসামি সর্বোচ্চ শাস্তি পাবেন। 

উল্লেখ্য যে, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরায় ধর্ষণের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখে মাগুরায় ফিরে যাচ্ছিলেন তৎকালিন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলারোয়ায় পৌঁছালে তৎকালিন জেলা বিএনপির সভাপতি সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে একটি বাস রাস্তার মাঝখানে আড় করে ব্যারিকেট দিয়ে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে  বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালায়। গাড়ি বহর লক্ষ করে ককটেল, গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে ত্রাস সৃষ্টি করে। এতে তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও তার সফরসঙ্গী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের নেত্রী আওয়ামী লীগ নেতা ফাতেমা জামান সাথী, আব্দুল মতিন, জোবায়দুল হক রাসেল এবং শহীদুল হক জীবনসহ অনেকেই আহত হন। একইসময় সাতক্ষীরার বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মোসলেমউদ্দিন ২৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলা থানায় রেকর্ড না হওয়ায় তিনি নালিশী আদালত সাতক্ষীরায় মামলাটি করেন। পরবর্তীতে এ মামলা খারিজ হয়ে গেলে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর ফের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। এসময় তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর