শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ মার্চ, ২০২১ ১৪:৫৩
প্রিন্ট করুন printer

টেন্ডার ছাড়াই সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

টেন্ডার ছাড়াই সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা-সমরসিংহ বেড়িবাঁধের সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। খাল পুনঃখননের মাটি বেড়িবাঁধের উপর রাখার অজুহাতে স্থানীয় বন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের সভাপতির নেতৃত্বে শ্রমিকরা বেড়িবাঁধের একপাশের (রিভার সাইড) কয়েকশ’ গাছ কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

উপজেলা বন বিভাগ সূত্র জানায়, সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১০-১১ অর্থবছরে উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড ব্রিজ থেকে সমরসিংহ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের দুই পাশে সামাজিক বনায়ন করার জন্য ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে পানি পাউবো ও উপজেলা বন বিভাগের সাথে ৩টি সমিতির সামাজিক বনায়নের চুক্তি হয়। চুক্তি সম্পাদনের পর বন বিভাগের অর্থায়নে পৃথক ৩টি সমিতির উদ্যোগে ওই বছরের জুন মাসে বেড়িবাঁধের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ১৪ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।

সম্প্রতি উপজেলার ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড ব্রিজ থেকে সালথা পর্যন্ত বেড়িবাঁধের এক পাশে (রিভার সাইড) সারি সারি গাছ কেটে নেয় একটি চক্র। এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ৪ শতাধিক গাছ কেটে নেয় তারা। আমানতগঞ্জ-শশিকর খাল পুনঃখননের মাটি দিয়ে কাটা গাছের অধিকাংশ গোড়ালী ঢেকে দেয় তারা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, বেড়িবাঁধের সামাজিক বনায়নের সহস্রাধিক রেইন্ট্রি, মেহগিনি ও আকাশমনি গাছ কেটে নিয়ে গেছে তারা। কিছু গাছ কেটে বেড়িবাঁধের আশেপাশে রাখা হয়েছে। গৌরনদীর ২ বন কর্মকর্তার যোগসাজশে সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা কেটে ফেলা গাছের অধিকাংশ বিক্রি করে ৩ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়। 

গৌরনদী বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার সেলিম আহম্মেদ বলেন, ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় গৌরনদীর আমানতগঞ্জ থেকে কালকিনির শশিকর পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। বেড়িবাঁধের উপর খাল খননের মাটি রাখার কারণে মাটি চাপায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু গাছ সুবিধাভোগী সদস্যরা কেটে হেফাজতে রেখেছে। খাল পুনঃখননের মাটি বেড়িবাঁধের ওপর রাখতে বেড়িবাঁধের সামাজিক বনায়নের গাছ অপসারণের ব্যবস্থা করার জন্য মাদারীপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর চিঠির প্রেক্ষিতে বরিশাল পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সম্প্রতি বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন। এরপর ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ড ব্রিজ থেকে সমরসিংহ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধের নদীর তীরবর্তী গাছগুলো টেন্ডারের জন্য মার্কিং করা হয়। বেড়িবাঁধ থেকে কাটা ৫ লট গাছ ও মার্কিং করা গাছগুলো বিক্রি করতে চলতি মাসেই টেন্ডার আহ্বান করার কথা বলেন তিনি। 

উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, খাল পুনঃখনন কাজ যাতে ব্যাহত না হয় সে দিকে নজর রাখছেন তারা। খাল পুনঃখননের জন্য বেড়িবাঁধের সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের গাছ অপসারণ করা হবে। টেন্ডার ছাড়া গাছ কাটার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর