শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ মার্চ, ২০২১ ১৭:৪৫
আপডেট : ১২ মার্চ, ২০২১ ১৮:০৮
প্রিন্ট করুন printer

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ৭

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

সিদ্ধিরগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ৭
মাদ্রাসা ছাত্র হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকরা

নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রের বন্ধুসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মাদ্রাসা ছাত্র রূপগঞ্জ উপজেরার শান্তিনগর এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (১৪)। সে রওজাতুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

আজ শুক্রবার সকালে নিহতের বাবা বাদী হয়ে সিদ্ধারগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে দুপুরে পুলিশ নাসিক সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সুলবাগ মাঝিপাড়ার রওজাতুল উলুম মাদ্রাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে শিক্ষকদের আদালতে পাঠান। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক শওকত হোসেন সুমন (২৬), জোবায়ের আহম্মেদ (২৬) ও আব্দুল আজিজ (৪২)। ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় ৪ সহপাঠীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এ এস এম শাহীন বলেন, ‘১০ মার্চ ১১টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষক  জোবায়ের নিহতের পরিবারকে জানায় সাব্বির মাদ্রসার ছাদে উঠার সিড়ির পাশে রডের সাথে গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে স্বজনরা পুলিশে কোন অভিযোগ না দিয়ে মাদ্রাসা থেকে লাশ নিয়ে রূপগঞ্জে নিজ এলাকায় দাফন করে। কিন্তু দাফনের আগে গোসলের সময় নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এজন্য নিহতের বাবা অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে ৩ মাদ্রাসার শিক্ষক ও নিহতের ৪ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।'

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ‘শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাম দিয়েছে। বিষয়টি ময়নাতদন্তের পরই বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা। কবর থেকে লাশ তোলা হবে। তিন শিক্ষককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ৪ বন্ধুকে কিশোর আইনে পাঠানো হয়েছে।’

নিহত সাব্বির হোসেনের বাবা জামাল হোসেন বলেন, ‘১০ মার্চ সকাল সোয়া ৯টায় আমার ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষক জোবাইয়েরর মোবাইল থেকে তার মাকে ফোন দেয়। ওই সময় সে সুস্থ ছিল। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফোন দিয়ে ওর মাকে শিক্ষক জোবায়ের বলে সাব্বির আত্মহত্যা করছে দ্রুত মাদ্রাসায় আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা মাদ্রাসায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর আমার সন্তানের লাশ দেখতে দেওয়া হয়নি। তার আগে (মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি) আমাদের একটি আলাদা রুমে নিয়ে হুমকি দেন। এরপর লাশ এনে বাড়িতে গোসল করানোর সময় আমরা, মহল্লাবাসীসহ সবাই সাব্বিরের মাথায়, চোখের উপরে কপালে, ঠোঁঠে ও দাড়ির নিচে, গলায় আঘাতের চিহ্ন, পায়ে মারধরের চিহ্ন এবং শরীরটা থেথলানো।’

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে পিটিয়ে কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে। তারা আমার ছেলেকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে দিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

 


বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর