শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল, ২০২১ ২০:৩৮
প্রিন্ট করুন printer

শরীয়তপুরে হাসপাতালের পলেস্তারা খুলে পড়ছে, ঝুঁকিতে ভবনের নিচতলা

রোকনুজ্জামান পারভেজ, শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে হাসপাতালের পলেস্তারা খুলে পড়ছে, ঝুঁকিতে ভবনের নিচতলা

শরীয়তপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের নিচতলার রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা শনিবার ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে। পলেস্তারা খসে পড়ার পরও ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের ওই কক্ষটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এর আগে, গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনীর আহমদ খানের কক্ষের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়েছিল। এখনো ওই কক্ষটির সংস্কার কাজ শেষ না করায় তা ব্যবহার করতে পারছেন না তত্ত্বাবধায়ক।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আক্তার হোসেন বলেন, শনিবার সকালে কক্ষের তালা খুলে দেখি ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে আছে। এক্সরে মেশিনের উপর পলেস্তারার অংশ পড়ে আছে। বিকল্প কক্ষ না থাকায় এখনো ওই কক্ষটিই রোগীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের ওই বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগটি নিচতলার দুটি কক্ষে অবস্থিত। একটি কক্ষের ছাদের অধিকাংশ অংশের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। আর কিছু অংশ ঝুলে আছে। ওই কক্ষের মধ্যেই রোগীদের সেবা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনীর আহমদ খান বলেন, ১৯৮৫ সালে হাসপাতালের একটি অংশ একতলা ও একটি অংশ দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে অতিরিক্ত ১৬টি পিলার স্থাপন করে হাসপাতালটি তৃতীয়তলা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। বর্তমানে হাসপাতাল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত পাঁচ বছরে পাঁচদফা বিভিন্ন ফ্লরের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে নিচতলার করিডোরে ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পরে তখন তিন ব্যক্তি আহত হয়েছিল। শনিবার আবার রেডিওলজি বিভাগগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। গত বছর আমার কক্ষের পলেস্তারাও খসে পড়েছিল। তখন অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা ভবনটি পরীক্ষা করেছেন। এখন ভবনের নিচতলা সংস্কার না করে ব্যবহার করা ঠিক হবে না।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৮৫ সালে জেলা শহরে ৩০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ১৯৯০ সালে তা ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় রুপান্তর করা হয়। ১৯৮৫ সালে ভবনের এক অংশ একতলা ও আরেক অংশ দোতলা করা হয়। এরপর ১০০ শয্যা করার পর ২০০৮ সালে পুরো ভবনটিকে তৃতীয়তলায় বর্ধিত করা হয়। ভবনের ভিত দুর্বল থাকায় তখন ওই অবস্থার মধ্য দিয়ে ১৬টি অতিরিক্ত পিলার স্থাপন করে ভবনের বর্ধিত অংশের কাজ করা হয়।

সদর হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগের ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে ভবনের বিভিন্ন স্থানের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ছে। অনেক স্থানে ছাদের পলেস্তারা ফাটল রয়েছে। অনেক কক্ষ দিয়ে পানি পড়ে। এমন অবস্থায় কয়েক দফা ছাদের পলেস্তারা ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা আতঙ্ক নিয়ে অফিস করছি। আমার ফার্মেসি বিভাগের কক্ষের ছাদ ও ভিমে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। 

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমন কুমার পোদ্দার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাসপাতাল ভবনের চিনতলায় বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক, আরএমওর কক্ষ, এক্সেরে রুম ও ল্যাবরেটরি ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ করার কক্ষ রয়েছে। ছয়টি কক্ষ এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ। শনিবার পুনরায় ছাদের অংশ ধসে পড়ায় আমরা আতঙ্কে আছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ভবনটি পুরনো। তাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার করা হবে। সেজন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে নিরাপদে সকলে কাজ করতে পারেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর