শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০৬:১১
প্রিন্ট করুন printer

বিধবা ভাতা দেয়ার কথা বলে ভিক্ষুকের টাকা আত্মসাৎ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

বিধবা ভাতা দেয়ার কথা বলে ভিক্ষুকের টাকা আত্মসাৎ!
প্রতীকী ছবি
Google News

বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের কাঠেরচর গ্রামে তাহমিনা বেগম (৬৫) নামে এক ভিক্ষুককে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

স্থানীয় জাতীয় পার্টির আব্দুর রব নামে এক নেতা বিধবা ভাতা দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ওই অর্থ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ভুক্তভোগী তাহমিনা ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নান হাওলাদারের স্ত্রী। অভিযুক্ত আব্দুর রব একই গ্রামের মৃত খাদেম খানের ছেলে এবং কাজিরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি। 

৩ বছর আগে ওই বৃদ্ধার স্বামী মারা যায়। তাদের দাম্পত্যে কোন সন্তান নেই। সহায় সম্বল বলতে একটি খুপড়ি ঘর। কোন স্বজন এবং সহায়-সম্পদ না থাকায় ভিক্ষা করে সংসার চালান তিনি।

তাহমিনা জানান, বিধবা ভাতা পেতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধর্না দিয়েও কোন লাভ হয়নি। এক বছর পূর্বে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেন আব্দুর রব। গত ঈদ-উল আযহার দিন বিভিন্ন বাড়ি থেকে ৪ কেজি গরুর মাংস পান তিনি। ওই মাংস বিক্রি করে দুই হাজার টাকা আব্দুর রবকে দিলে তিনি দুই মাসের মধ্যে বিধবা ভাতা পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু গত ১০ মাসেও বিধবা ভাতা পাননি তিনি। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো গালাগাল করে সে। পরে এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেন তিনি। 

কাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মন্টু বিশ্বাস বলেন, তাহমিনা তাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাহমিনাকে বিধবা ভাতায় তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তাকে বিধবা ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টি নেতা আব্দুর রব খানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। 

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভ্রা দাস জানান, বিষয়টি লজ্জাজনক। বিধবা ভাতার কথা বলে ভিক্ষুকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে তাহমিনাকে বিধবা ভাতায় তালিকাভুক্তির করার উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন তিনি।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন

এই বিভাগের আরও খবর