শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৪১
প্রিন্ট করুন printer

মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগে নির্যাতন, তিনজন কারাগারে

মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগে নির্যাতন, তিনজন কারাগারে

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগে কথিত ভাই-বোনকে ১০০টি করে জুতাপেটা করেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। পরে তাদের জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরিয়ে সমাজচ্যুত করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত তিন সালিসকারীকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর গ্রামের মনির মিয়ার (৪০) সাথে রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের সুতারকান্দি গ্রামের ছাবেদালী ফকিরের স্ত্রী খোদেজা বেগমের (৫০) ধর্মীয়ভাবে আত্মীয়তা রয়েছে। তারা ধর্ম ভাই-বোন হিসেবে উভয়ের বাড়ি যাতায়াত ছিল। আত্মীয়তা সূত্রে ধরে গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মনির মিয়া তার বোন খোদেজা বেগমের বাড়ি বেড়াতে আসেন। 

কিছুক্ষণ পরেই একই বাড়ির কালু ফকির, ইমরান ফকির, শাকিব আকন, রানা ফকির, শামীম ফকিরসহ ৮/১০ জন খোদেজা ও মনিরকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে বাইরে আনে। পরে খোদেজা ও মনিরকে বেঁধে ফেলে। এক পর্যায় বাড়ির উঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রহসনের শালিস বসায়। শালিসিতে কালু ফকির গং কারো বক্তব্য না শুনে তাদের ইচ্ছেমত রায় ঘোষণা করে। 

রায় অনুযায়ী থোদেজা ও মনিরকে ১০০ জুতাপেটা, জুতার মালা পরিয়ে সারা এলাকা ঘুরানো ও তাদের ঘরে তালা ঝুলিয়ে এলাকা থেকে বের করার রায় ও সমাজচ্যুত করা হয়। সাথে সাথে ইমরান ফকির, কালু ফকির আজিজুলসহ ৮/১০ জন শত শত মানুষের সামনে ওই দু’জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় ১০০ জুতা পেটা করে জুতার মালা পরিয়ে সারা এলাকা ঘোরায়। পরে খোদেজা বেগমের ঘরে তালা ঝুলিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয়া হয়। অমানবিক ও ন্যক্কারজনক এ ঘটনায় উৎসুক জনতা শুধু দেখেছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।

এ ঘটনায় শনিবার রাতে সালিসকারী কালু ফকির, ইমরান ফকির, শামীম ফকিরসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে রাজৈর থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সালিসকারী কালু ফকির, আজিজুল ফকির ও শাকিব আকনকে রবিবার গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রহসনের শালিসের প্রধান হোতা কালু ফকির বলেন, ‘ওই মহিলা খুবই বাজে চরিত্রের লোক। তাই একটু শাসনের জন্য শালিস করা হয়। শালিসে অনেক মাতব্বর ছিল। তারা সবাই মিলে এ রায় দেয়।

রাজৈর থানার ওসি শেখ সাদী বলেন, ‘ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমরা থানায় মামলা নিয়েছি। রাতে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার মুল হোতা কালু ফকিরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্বরোচিত এ ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। বাকি আসামিদের ধরার ব্যাপারে জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই বিভাগের আরও খবর